চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি

No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

দাদাভাই, এখনো বেঁচে আছেন

মাহবুব রেজামাহবুব রেজা
১১:৪৩ অপরাহ্ন ০২, ডিসেম্বর ২০১৬
মতামত
A A

এক।।
কলোনির ব্যালকনি খুব ছোট্ট একটা বারান্দার মত জায়গা । এধরনের ব্যালকনিতে বাড়ির বাড়তি জিনিসপত্র ডাই করে রাখা হয় ।আমার নানী বুদ্ধি করে তার ছোট দু’রুমের বাড়ির ব্যালকনিটাকে বাড়তি মানুষের থাকার সংস্থান করার জন্য কেরোসিনের কাঠ দিয়ে একটা ছোটোখাটো ঘরের আকার দিলেন । কাঠের বড় একটা বক্স খাটের মত করে ব্যালকনির পুরো জায়গাটিকে ভরাট করে ফেলা হয়েছিল ।খাটের ওপর বাড়ির লেপ , তোষক , খেতা , কম্বল থাকে । নিচে নারকেল ,পুরনো কাঠ , দা ,খুন্তি আরও কত কি !
কলেজের সেকেন্ড ইয়ারে পড়ার সময় এক সন্ধ্যায় সেই ব্যালকনিতে গল্পের মত কিছু একটা লিখে ফেললাম । পরদিন সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে কলেজে না গিয়ে লেখাটি নিয়ে চলে গেলাম ছড়াকার, গল্পকার আমিরুল ইসলামের কাছে । উনি তখন থাকেন লালবাগের ১৯৮ নম্বর জগন্নাথ সাহা রোডে । মহল্লার সবার কাছে টুলু ভাই নামে পরিচিত । নিসতারের মাধ্যমে আজাদ অফিসে তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল । তার সঙ্গে পরিচয়ের শুরুটা ছিল বেশ তিক্ত । তার কথা শুনে আমার মনে ধারনা জন্মেছিল , মানুষ এরকম চাঁছাছোলা ধরনের হতে পারে !
পরিচয়ের শুরুতেই তিনি নবীন লেখকদের কে কি পড়েছে তার বিবরণ জানতে চাইলেন । প্রায় সবাই নিরুত্তর । আমি শুধু তার কথার টুকটাক উত্তর দিয়ে যাচ্ছিলাম । আমার নানা প্রচুর বইপত্র পড়তেন । আমার কথায় তিনি আমার দিকে তাকিয়ে  বললেন , তুমি কি লেখো ? গল্প না ছড়া ?
আমি লিখি না ।
rokonuzzaman-dadavai-2বোঝা গেল আমার কথা শুনে টুলু ভাই একটু অবাকই হলেন । তিনি নিসতারসহ অন্যদের ব্যান্ডবক্স ধোলাই দিয়ে বললেন , মিয়ারা তোমরা গল্প-ছড়া লেখনের আগে অন্যের লেখা পইরো । খালি নিজেগো মাইকেল-বন্দে আলী মিয়া ভাবলে তো হইব না । পড়তে হইব ।
আমিরুল ইসলাম আমার লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে বললেন ভালো হয়েছে , এইটাই কি পয়লা গল্প !
মাথা দোলালাম ।
উনি গরম চা আর ডালপুরি দিয়ে নাস্তা করালেন । তারপর বললেন , হুনো মিয়া এইখান থিকা নাইমা সোজা ইত্তেফাক অফিসে যাইবা । যাইয়া গল্পটা দাদাভাইরে দিবা । আর শোন মিয়া দাদাভাই কিন্তু অনেক রাগী মানুষ । আঁতকা উতকা উনার রুমে হান্দায়া যাইও না । সাবধানে – সুবধানে ঢুইকো ।
দাদাভাইকে দেবো গল্প !
দৈনিক দেশ , দৈনিক আজা্‌দ , দৈনিক নব অভিযান- এসব পত্রিকা বাদ দিয়ে একেবারে সোজা ইত্তেফাকে ! ইত্তেফাকের কচিকাঁচার আসর আর দৈনিক বাংলার সাত ভাই চম্পা ছিল ছোটদের সেরা পাতা ।  একদিকে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই আর অন্যদিকে আফলাতুন ভাই এই দুজন বাংলাদেশের শিশু সাহিত্যের দুই শ্রেষ্ঠ পাতার খ্যেতিমান সম্পাদক । ষাটের দশক থেকে এই দুই আলোর মানুষ বাংলাদেশের শিশু সাহিত্যকে মেলে ধরেছেন লেখক তৈরি করে , নিজেরা লিখে । কচিকাঁচার আসর আর সাত ভাই চম্পার অনিন্দ্য সুন্দর ম্যাক আপ ,গেট আপে ঝলমলে করে তুলেছেন আমাদের শিশুদের মেধা-মনন-চিন্তা-আদর্শ আর চেতনাকে । বাংলা, বাঙালী ,মুক্তিজুদ্ব আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিশ্বাসে এদেশের শিশু কিশোরদের অন্তরাত্মাকে রাঙিয়ে তুলেছেন এই দুই কীর্তিমান সম্পাদক । এই দু’জনের বাইরে ছিলেন খেলাঘরের কবি হাবিবুর রহমান , টাপুর টুপুরের এখলাসউদ্দিন আহমেদ ,মাসিক শিশু পত্রিকার বিপ্রদাশ বড়ুয়া , ধানশালিকের দেশের সেলিনা হোসেন , নবারুনের খালেদা এদিব চৌধুরী , আজাদের মদাব্বের আহমেদ সহ আরও কয়েকজন ।
টুলু ভাইয়ের বাসা তিন তলা বাড়ি থেকে নেমে আমি মন্ত্র মুগ্ধের মত কলেজে না গিয়ে ইত্তেফাক অফিসে চলে গেলাম । তখন বারোটা বেজে গেছে । আমি রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ইত্তেফাক অফিসের দোতলায় দাদাভাইয়ের রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম । সাহসে কুলোচ্ছে না ।কয়েকবার দাদাভাইয়ের রুমে ঢোকার রিহারসেল দিলাম । কিন্তু কোন কাজে এলো না । এদিকে ঘামে শার্ট ভিজে জবজব হয়ে গেছে ।
তারপর যা হয় হবে ভেবে নিয়ে আমি দাদাভাইয়ের দরোজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে গেলাম ।
বিশাল ঘর । অনেক বড় এক টেবিল ঘরের পুরোটাই দখল করে রেখেছে । টেবিলের ওপর রাজ্যের যত কাগজ পত্র দাদাভাইকে প্রায় ঢেকে রেখেছে । দাদাভাইয়ের সামনে দু পাশের চেয়ারে কয়েকজন বসে আছে । তাদের সামনে চায়ের কাপ । তারা আমার দিকে আড় চোখে এমনভাবে তাকাল যে মনে হল আমি যেন রংপুরের মঙ্গা কবলিত এলাকা থেকে এইমাত্র ঢাকায় এসে পৌঁছেছি ! আমি তাদের দিকে তাকানোর প্রয়োজন মনে করলাম না । আমি তাদের দিকে না তাকিয়ে সরাসরি দাদাভাইয়ের দিকে তাকালাম । ভেতরে ভেতরে rokonuzzaman-dadavai-3আমি কাঁপছি । দাদাভাই কি সেটা লক্ষ্য করতে পেরেছিলেন !
কি চাই ? আমার দিকে তাকিয়ে দাদাভাই গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলেন ।
আমি সেদিন কি বলেছিলাম বা কি করেছিলাম জানি না তবে আমার লেখা গল্পটি যে কোন রকমে টেবিল হয়ে তাঁর হাত পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পেরেছিলাম এতোটুকু মনে আছে । তারপর কোন রকমে সেখান থেকে পালিয়ে বেরিয়ে গিয়ে নিজেকে বাঁচাতে পেরেছিলাম । সেদিন ছিল রোববার । ইত্তেফাক অফিস থেকে বেরিয়ে বাইরের ফুটপাতে এসে অনেকক্ষণ হাঁপিয়ে ছিলাম ভাদ্র মাসের জীবের ( জীবটির নাম আর নাই বলি )  মত । এর ঠিক দু’দিন পর বুধবার কচিকাঁচার আসরের পাতা বের হল । তাতে আমার গল্প যতটা না জ্বলজ্বল করে জ্বলছিল তারচেয়ে বেশি করে ঝলমল করে জ্বলছিল ষোল পয়েন্টে বোল্ড টাইপে আমার নামটি ।আহা কি যে আনন্দিত হয়েছিলাম সদিন। গল্পের নাম, শাহ আলম তুমি কেমন আছো । সালটা ১৯৮৭ আর তারিখ ফেব্রুয়ারির ১৮ ।
বুধবার সকালে কি মনে করে আমি ইত্তেফাক পত্রিকাটি নিয়ে দেখি কচিকাঁচার আসরে আমার গল্পটি ছাপা হয়েছে । আমি আমার নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না । ইত্তেফাকে গল্পটি ছাপা হওয়ার পর কলেজে আমার বন্ধুবান্ধবরা আমার দিকে বিশেষ দৃষ্টিতে তাকাতে শুরু করল । এতদিন সিটি কলেজে গল্পকার ছিল সবেধন একজন  । আজ থেকে আরেকজন !

দুই ।।

গল্পটি ছাপা হওয়ার পরের সপ্তাহে আবার গেলাম দাদাভাইয়ের রুমে ।
প্রথম দিনের মত সেদিনও দাদাভাইয়ের সামনের দু পাশের চেয়ারে দু চারজন বসে আছেন ।
আরে ! এদের তো আমি সেদিনও দেখেছি !
আমার হাতে তরতাজা নতুন গল্প । আমাকে দেখে দাদাভাই ভয় ধরানো গম্ভির গলায় আবারও একই কায়দায় বললেন , কি চাই ? দাদাভাইয়ের এধরনের গম্ভীর গলা শুনে আমার ভারতীয় বাংলা ছবিতে অভিনয় করা জাঁদরেল অভিনেতা ছবি বিশ্বাসের কথা মনে পরে গেল । আরে দাদাভাই কি তবে ছবি বিশ্বাসের গলা নকল করে বলে কি চাই !
গল্প এনেছি বলে বললাম , গত সপ্তাহে আমার একটি গল্প ছাপা হয়েছে ।
দাদাভাই বললেন , গল্পটা রেখে যাও ।
rokonuzzaman-dadavai-4দাদাভাইয়ের আশেপাশে বসে থাকা কয়েকজন আমাকে প্রথম দিনের মত করে দেখলেন । এদের দেখে আমার মনে হল , এরা বুঝি রুটিন করে প্রতিদিন দাদাভাইয়ের রুমে এসে বিনে পয়সায় চা ,বিস্কিট চাই কি দুপুরের খাবার টাবারও খান । তারপর বেশ একটা ভাব দেখিয়ে দাদাভাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যান ।
আমি গল্পটা দাদাভাইয়ের হাতে দিয়ে কিছুটা পেছনে এসে দাঁড়িয়ে আছি দেখে দাদাভাই আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকালেন , আর কিছু বলবে ?
গল্পের জন্য বিল হবে তো ?
প্রথম গল্প ছাপা হয়েছে কোথায় চুপচাপ থাকবে ,গদগদ করবে তা না করে কিনা ছেলে গল্পের জন্য বিল চায় !
দাদাভাই একজন নবীন গল্পকারের মুখে এধরনের কথা সম্ভবত প্রত্যাশা করেন নি । তিনি হতবাক হয়ে আমার দিকে আরও ভাল করে তাকালেন । চোখ থেকে চশমা নামিয়ে টেবিলের ওপর রাখলেন । দাদাভাইয়ের সামনের চেয়ারে যে ক’জন বসা ছিল তারা একবার এ ওর দিকে , ও এর দিকে তাকাতাকি করতে থাকল ।তাদের মুখের ভাব এরকম , দেখো , ছেলের সাহস কতো ?
দাদাভাই আমাকে বসতে বলে বেল টিপে পিয়ন সুলতানকে ডাকলেন । সুলতান এলে আমার জন্য এক কাপ চা আনতে বললেন । আমি একটু ভয়ই পেয়ে গেলাম বিল চাওয়ার অপরাধে দাদাভাই আমাকে আবার ঝাড়ি-টাড়ি মারেন কিনা কে জানে ! ঝাড়ি দেয়ার আগে বুঝি আদরযত্ন করে চা খাওয়াচ্ছেন !
আমি বসলাম ।
দাদাভাই আমাকে বললেন , কি করো তুমি ?
কলেজে পড়ি ।
বাবা কি করেন ?
নেই-ছোট করে বললাম ।
কোথায় থাকো ?
আজিমপুর কলোনি ।
অ বলে দাদাভাই কিছুক্ষণের জন্য ঝিম মেরে রইলেন ।
এর মধ্যে চা এসে গেল । পিয়ন সুলতানও চা দেয়ার সময় আমার দিকে কেমন করে যেন তাকাল । তার তাকানোর মধ্যে কি এক ধরনের তাচ্ছিল্য-ভাব ছিল ! তাকে দিনের মধ্যে কত ধরনের লেখককে যে চা সিঙ্গারা এনে খাওয়াতে হয় ! সেই তালিকায় আজ থেকে আবার আমার মত আরেক উটকো ঝামেলার আবির্ভাব হল । স্বাভাবিক ভাবে তার রেগে যাওয়ারই কথা । আর রাগ থেকে তাচ্ছিল্য এসেও যেতে পারে । এটা দোষের কিছু না । সুতরাং সুলতানের তাকানোর ভেতর ঐ জিনিস থাকতেই পারে । থাকলেও আমার কোন ক্ষতি নেই । ছোটবেলা থেকে কতরকমের তাচ্ছিল্য দেখে দেখে বড় হওয়ার সুখানুভূতি পেয়েছি ।সুলতানের এই তাচ্ছিল্য সেসবের কাছে বাচ্চা পোলাপান । আমি ওসব গায়ে মাখি না । আর কেউ তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলে গোসল করার সময় যেভাবে পানি ঢেলে শরীর পরিস্কার করে ফেলে আমিও সেরকম করে পানি ঢেলে দিয়ে নিজেকে ধুয়ে ফেলি ।

দাদাভাইয়ের গলার স্বর যেন একটু নরম হয়ে এল । তিনি আর আগের মত গম্ভীর গলায় কথা না বলে এক ধরনের জমে যাওয়া গলায় আমাকে বললেন , আমরা গল্পের জন্য সিনিয়র লেখকদের বিল দেই । গল্পের জন্য তোমাকেও হয়তো দেব কিন্তু তুমি কেন নিজে থেকে বিলের কথা বলতে গেলে ?
দাদাভাই থেমে থেমে , সময় নিয়ে কথা বলেন । কথার মাঝে কখনো কখনো তার কথা বলা দীর্ঘক্ষণের জন্য থেমে যেত । তখন তিনি চুপ করে থাকতেন ।
আমি নার্ভাস হয়ে বললাম , টিউশনি করে চলতে হয় । বিলটা হলে আমার একটু উপকার হতো ।
দাদাভাই আমার কথা শুনে আর কথা বাড়ালেন না ।
যতক্ষণ দাদাভাইয়ের রুমে বসে চা খেলাম ততক্ষণ তিনি সবার সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে আমাকে একটু একটু করে দেখে নিচ্ছিলেন । দাদাভাই যে আমাকে দেখে নিচ্ছিলেন সেটা যেন কেউ বুঝতে না পারে সেদিকে তার পূর্ণ খেয়াল ছিল । দাদাভাইয়ের এই ব্যাপারটা কেউ না বুঝলেও আমি বুঝতে পারছিলাম ঠিকই ।
দাদাভাইয়ের রুম থেকে বেরিয়ে আসার সময় তিনি আমাকে বুকের ভেতর থেকে উঠে আসা মমতাময় ভালবাসায় বললেন,  তুমি আরও গল্প দিও । তোমার গল্পে পুরান ঢাকার গন্ধটা পাওয়া যায় ।

তিন ।।

এরপর দাদাভাইয়ের পাতায় বারো বছরে আমি আমার সমসাময়িক অনেকের চেয়ে অনেক বেশি গল্প লিখেছি । দাদাভাইয়ের কাছে কাজে অকাজে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেছি । কখনো তিনি নিজে ডেকে নিয়ে গেছেন । সুলতানকে দিয়ে কতদিন দেশবন্ধুর পরোটা ভাজি আনিয়ে খেতে দিয়েছেন । দাদাভাই কি বুঝতে পারতেন আমি সেই সব মুহূর্তে অভুক্ত থাকতাম !
rokonuzzaman-dadavai-1কথায় কথায় দাদাভাই একদিন আমার কাছে জানতে চাইলেন , আচ্ছা মাহবুব, তুমি থাকো আজিমপুরে আর তোমার গল্প থাকে পুরান ঢাকায় । এর রহস্য কি ?
দাদাভাইকে তখন আমি বললাম , আমার জন্ম পুরান ঢাকায় , নারিন্দা বসু বাজার লেনে । বেড়ে ওঠাও এখানে । কিন্তু বাবা মা মারা যাওয়ার পর আমরা নানীর বাড়ি আজিমপুর কলোনিতে চলে যাই । তাই আমার গল্পে পুরান ঢাকা থাকে ।
বসু বাজার ! শুনে দাদাভাই জানতে চান , কতো নম্বর বাড়ি ?
২৪ বসু বাজার লেন ।
ও , উকিল সাহেবের বাড়ি !
উকিল সাহেব আমার বাবা – একথা শুনে দাদাভাই অনেকক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন ।
এরপর দাদাভাই জানি না কি কারনে আমাকে খুব পছন্দ করতেন । স্নেহের পরিমাণও বেড়ে গিয়েছিল অনেক ।
আর কত গল্প যে দাদাভাই করতেন । পাংশার নারায়নপুর গ্রামে নানাবাড়িতে তাঁর জন্ম । মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি তাঁর মা রাহেলা খাতুনকে হারান । বাবা  মৌলভি মোখাইরউদ্দীন খান । দাদা ছিলেন মুজিরউদ্দিন খান হুগলীর মানুষ । ভেড়ামারায় ছিল তাঁর বিরাট জমিদারি ।সেকালে পাংশার চৌধুরী পরিবারের খুব নামডাক ছিল। নানা রওশন আলী চৌধুরী ছিলেন তখনকার দিনের নাম করা ‘ কোহিনূর ‘ পত্রিকার সম্পাদক ।
শিশুর মত সরল হাসি দিয়ে তাঁর ছেলেবেলার গল্প করতেন । দাদাভাই একবার তাঁর জীবনের প্রথম বন্দুকের গুলি ছোঁড়ার গল্প করেছিলেন । খুব মজা আর হাসির গল্প সেটি । একবার দুষ্টুমির এক গল্পও আমাকে শুনিয়েছিলেন । এক মৌলানার ঘোড়ায় চড়তে গিয়ে দাদাভা যে কিভাবে নাকাল হয়েছিলেন সেই গল্প বলতেন আর নিজেই বাচ্চাশিশুদের মত হেসে হেসে লুটিয়ে পড়তেন ।কলকাতার কষ্টের জীবনের কথা বলতেন । জীবন যুদ্বের কথা বলতেন ।
দাদাভাই মারা যাবার দুতিন দিন আগে আমি ইত্তেফাকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম । দুপুর গড়িয়ে গেছে অনেক আগে । তখন বিকেল মাত্র শুরু হয়েছে । সঙ্গে গল্প নিয়ে যাই নি দেখে দাদাভাই আমার সঙ্গে দুষ্টুমি  করলেন । হাসতে হাসতে আমাকে বললেন , কি বসুবাজার লেনের গল্পকার, আপনার গল্প কই ?
দাদাভাই যে এরকম করে আমার সঙ্গে দুষ্টুমি করবেন বা করতে পারেন সেটা আমার কল্পনার মধ্যেও ছিল না । বিশ্বাস করা তো দূরের কথা !

Reneta

চার ।।
এখনো মাঝে মধ্যে রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ওদিক দিয়ে যাওয়ার সময় মনে হয় রিকশা থামিয়ে দোতলায় উঠে দাদাভাইয়ের রুমে উঁকি মারি ।
দাদাভাইয়ের রুমে গেলে তিনি কি এখনো আগের মত ছবি বিশ্বাসের মত গম্ভীর গলায় বলে উঠবেন , কি চাই ?
আচ্ছা, দাদাভাই এখনো বেঁচে আছেন !

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Channel-i-Tv-Live-Motiom

Jui  Banner Campaign
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

মন্দার বাজারেও ভরসার নাম শাকিব

মার্চ ২৮, ২০২৬

শৈশবের বন্ধুকে নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা জানালেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ওসিমেন

মার্চ ২৭, ২০২৬

টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে নারী-শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু

মার্চ ২৭, ২০২৬

মিয়ানমার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপের আহ্বান জানাল মার্কিন কংগ্রেস

মার্চ ২৭, ২০২৬

ক্রীড়া দলগুলোকে ‘শত্রু’ দেশে সফর নিষিদ্ধ করল ইরান

মার্চ ২৭, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey January 2026 Bkash Stickey September 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT