শুরুটা হয়েছিল ২০০৭ সালের ২৫ জুলাই, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোতে ওয়ানডে দিয়ে। দেখতে দেখতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ বছর পূর্ণ হয়ে গেল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। শীর্ষ অঙ্গনে দশক পূর্তির দিনে নিজের ও দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে মনের দুয়ার খুলে দিয়েছিলেন টাইগার দলের এই অলরাউন্ডার।
মঙ্গলবার বিসিবিতে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মাহমুদউল্লাহ জানালেন, ফিট থেকে আরো অনেকটা সময় খেলে যাওয়ার ইচ্ছা এবং ক্যারিয়ারের যতি টানার আগে বাংলাদেশকে র্যাঙ্কিংয়ের তিন-চারে দেখার স্বপ্নের কথাও। এখানে প্রতিটি দিনই চ্যালেঞ্জিং তার।
দশক পূর্তির দিনে অবশ্য শুরুটাই করতে হল অনাহূত চোট প্রসঙ্গে বলে। দুদিন আগে ফিটনেস ক্যাম্পে ওয়েট লিফটিংয়ের সময় কোমরের নিচের অংশে চোট পেয়ে ৮-১০ দিনের জন্য বিশ্রামে চলে গেছেন রিয়াদ। তবে সেটি নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তার কিছু নেই, একদিন বাদেই সাইক্লিং শুরু করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন দলের ফিজিও বায়েজীদুল ইসলাম।
পরে দ্রুতই ফিরে যেতে হল স্মৃতির পাতায়। সেখানে বাংলাদেশের জার্সিতে দশ বছর কাটিয়ে ভালোই লাগছে মাহমুদউল্লাহর। লম্বা এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আরও কয়েক বছর খেলে যাওয়ার ইচ্ছা তার, ‘মানসিকভাবে এখন আমি আগের চেয়েও গোছাল, ইতিবাচক এবং আক্রমণাত্মক। এই জিনিসটা আমাকে বেশি সাহায্য করছে। ফিটনেসও আগের চেয়ে অনেক ভালো। এটা ধরে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। সেটা করে আরো কয়েকটা বছর খেল যেতে চাই।’
মাহমুদউল্লাহর মত আরও কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড় এখন টাইগার দলে। মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক; যারাও দশ বছর পার করে এসেছেন। দলে অভিজ্ঞতার এই বিষয়টিকে ইতিবাচকই মনে হচ্ছে তার। দলে তরুণ-অভিজ্ঞের এই যোগসূত্র সাফল্যের পথ তৈরি করে দিচ্ছে।
সতীর্থরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করে যাবেন আরও অনেকটা সময়। সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে নিজের মাঝেও বাড়তি দায়িত্ববোধ জন্ম নিয়েছে বলে জানালেন রিয়াদ। দশক পেরিয়ে এসে ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে মূল্যায়নের পথে এটাই প্রথম ভাবনা তার, ‘এখানে প্রতিটি দিনই চ্যালেঞ্জিং। কখনোই থিতু হতে পারবেন না। যতো দিন যাবে, দলগুলো আপনাকে নিয়ে কাজ করবে। সেখানে আমার শক্তির যে জায়গাগুলো আছে, সেগুলো নিয়ে প্রতিনিয়তই কাজ করছি। কষ্টের কোনও বিকল্প নেই। তবে এটা ধরে রাখাই জরুরি। বাড়তি একটা দায়িত্ব তো এসেই যায়।’
ক্যারিয়ারের শেষে নিজেকে কোথায় দেখতে চান সেটি নিয়ে এখনই ভাবছেন না মাহমুদউল্লাহ। লক্ষ্য ঠিক করে এগোনোর চেয়ে ছোট ছোট ধাপ পেরিয়ে শিখরে পৌঁছার সিঁড়িটাই পছন্দ তার।
ক্যারিয়ারে অনেক স্মরণীয় মুহূর্তের মাঝে দুটো ঘটনা আলাদা করেই মনে রাখবেন মাহমুদউল্লাহ। যে ঘটনা দুটো আসলে আলাদা করে মনে রাখবে পুরো বাংলাদেশই। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে টানা দুম্যাচে সেঞ্চুরি, আর ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডকে ছিটকে লাল-সবুজদের সেমিতে তোলা অসাধারণ শতকটি। তবে তুলনা করে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে পারলেন না রিয়াদ, ‘সবগুলোই স্মরণীয়। আমার মনে হয় বাংলাদেশ দলের হয়ে যখন যেখানে যেভাবে অবদান রেখেছি, সবই সমানভাবে স্মরণীয়।’
দল সাফল্যের ধারাবাহিকতার মধ্যে আছে। সামনের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রত্যাশার পালে বাড়তি হাওয়া লাগছে। মাহমুদউল্লাহ এখনই অতদূর ভাবতে চান না। তবে স্বপ্নটা পুষছেন, ‘বিশ্বকাপ জেতাটা একটা লম্বা সময়ের ব্যাপার। আমাদের জন্য ২০১৮ সালটা গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের আগে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হলে ওই বছরটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
অনেক অর্জনই টাইগার জার্সিতে এসেছে। আবার অধরাও থেকে গেছে অনেককিছুই। দশ পেরিয়ে এসে পূর্ণতা-অপূর্ণতার পাল্লাটা কিভাবে মাপেন টাইগার তারকা? ‘অনেক উত্থান-পতন আছে, অপূর্ণতার কথা বললেও অনেককিছুই বলা যায়। আমরা এখন যেভাবে পারফর্ম করছি, সেভাবে আরও অনেক বছর করতে পারাটাই বড়। আমরা ১০ নম্বরে থেকে শুরু করেছিলাম। এখন চাই র্যাঙ্কিংয়ের সেরা তিন-চারে থাকতে।’
ভবিষ্যতে কিভাবে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন সেটা নিয়ে এখনই ভাবতে নারাজ মাহমুদউল্লাহ। ক্রিকেট ছেড়ে দিলে জীবন কেমন হবে সেটা নিয়েও ভাবেননি কখনো। আপাতত নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট রাখার চ্যালেঞ্জটাই আসল তার কাছে। তাহলে আরও কয়েকটা বছর খেলে যেতে পারবেন, সেটাই ভাবনার কেন্দ্রস্থলে।
বিস্তারিত ভিডিওতে:







