নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশে দলগুলোর মতামত নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আইনজীবীরা বলেছেন, তথ্য অধিকার আইনের মামলায় প্রথম এ রায়টি যুগান্তকারী। এর মাধ্যমে গণমাধ্যমসহ সকল নাগরিকের সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে রিটকারীরা জানিয়েছেন।
২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনের কাছে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বার্ষিক আয় ব্যয়ের হিসাবের তথ্য চেয়ে আবেদন কারেন সুজনের সভাপতি বদিউল আলম মজুমদার। গোপনীয়তার কথা বলে ইসি ওই তথ্য না দিলে এর প্রতিকার চেয়ে তথ্য কমিশনে গেলে, কমিশনও একই মত দেয়। এর বিরুদ্ধে ৬ জন রিট করলে, পরে রুলের শুনানি শেষে রায় দেন হাইকোর্ট।
রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া বলেন, ‘রায়ে তথ্যকমিশনের সিদ্ধান্তকে অবৈধ করা হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে এটা প্রতিষ্ঠিত হলো যে, নির্বাচন কমিশনের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর যেসব তথ্য রয়েছে তা বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিককে সরবরাহের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত গ্রহণের কোনো প্রয়োজনীয়তা নাই। কারণ বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকেরই এটা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।এটা গণমাধ্যমের জন্যও খুব প্রয়োজনীয়।’
রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানান রিট আবেদনকারীরা। রায়কে যুগান্তকারী উল্লেখ করে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সরকারি অফিস যেগুলো জনস্বার্থে কাজ করে তাদের কোনো তথ্যই আর গোপনীয় নয়। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমের জন্য ওইসব তথ্য পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো।’
সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে তথ্যাধিকার আইনের যে প্রয়োগ সেটা প্রত্যেক নাগরিক যাতে করতে পারেন সেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো আজ।’
রিট আবেদনকারীরা জানিয়েছেন, এর আগে তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়ার বিষয়ে রিট করেছিলেন এবং রায়ে আট ধরনের তথ্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।







