আলি বাবা ও চল্লিশ চোরের গল্পের সেই ‘খুল যা ছিম ছিম’ মন্ত্রের কথা মনে আছে? শুক্রবার রাত থেকে সেটির আধুনিকরূপ জপতে শুরু করেছিল পুরো বাংলাদেশ! সবার মনে মুখে একই বোল- ‘খুল যা সেমি সেমি’! শনিবার রাত হতে হতে যেটি রূপ নিল কোরাসে, যার শেষ হল ইংল্যান্ড দলকে ধন্যবাদ জানানোর মধ্য দিয়ে।
১১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফিরেই সেমিতে বাংলাদেশ। প্রথম ধন্যবাদটা প্রাপ্য টাইগারদেরই। সেটা শুক্রবার রাতে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়েই আদায় করে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
মাশরাফিরা নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করে রাখলেও সেমির সীমানা দূরেই ছিল। সেজন্য শনিবার ইংল্যান্ডের কাছে হারতে হত অস্ট্রেলিয়াকে। অথবা বৃষ্টিতে ভেস্তে যেতে হত দুদলের ম্যাচ। ইংল্যান্ড ক্রিকেটীয় পথটিই বেছে নিয়েছে। দুদফা বৃষ্টির হানার পর দাপটের সঙ্গে জিতেছে ম্যাচ। বিদায় করে দিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এতেই নিশ্চিত হয়ে গেছে লাল-সবুজদের সেমির টিকেট। ধন্যবাদটা তাই ইংল্যান্ডেরও প্রাপ্য।
প্রথম ধাপটা রচিত হয়েছিল কার্ডিফ রূপকার জন্ম দেয়ার মধ্য দিয়ে। নিউজিল্যান্ডকে ২৬৫ রানে আটকে রেখে ৩৩ রানে চার উইকেট হারানোর পর মহাকাব্যিক জুটি। সাকিব-মাহমুদউল্লাহর সেই রেকর্ড জুটিতে ৫ উইকেটের জয়। বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ জুটি গড়ে সাকিব-মাহমুদউল্লাহ ২২৪ রান যোগ করেন। তাতে সাকিবের অবদান ১১৪, আর মাহমুদউল্লাহর অপরাজিত ১০২ রান। সেখান থেকেই স্বপ্নের পথে এক কদম দিয়ে রাখা।
দ্বিতীয় ধাপটা এল ইংল্যান্ড জেতায়। প্রথমবারের মত আইসিসির কোন টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল টাইগাররা। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলাই ছিল লাল-সবুজদের আগের সেরা সাফল্য।
সব মিলিয়ে স্বপ্নের সেমিফাইনালের জন্য হয়ত ইংল্যান্ডের জয়ের পানে চেয়ে থাকতে হয়েছে। তারা অস্ট্রেলিয়াকে না হারালে সেমির চাবি মিলত না। কিন্তু এতে যেমন একটুও কমে যায় না টাইগারদের বীরত্বগাঁথা, আবার ইংল্যান্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা না জানালেও পূর্ণতা পায় না জয়োৎসব। তাই, থ্যাঙ্ক ইউ ইংল্যান্ড!








