কড়া নিরাপত্তায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদ উল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঠিক সকাল আটটায় শুরু হয় এ জামাত। তাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, মন্ত্রিসভার সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, বিদেশী কূটনীতিক, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষ। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাতারবন্দী হয়ে একত্রে ঈদ উল আজহার নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।
ঈদের ময়দানে ছিল কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। র্যাব, পুলিশ, বিভিন্ন পর্যায়ের গোয়েন্দাসহ নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় ঈদগাহ ময়দান ও তার আশপাশের এলাকায়। নিরাপত্তার স্বার্থে জায়নামাজ ও মোবাইল ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে ময়দানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে কুরবানির এই জামাতে মুসল্লিদের মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে দারুণ উৎসাহ উদ্দীপনা। ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর নানা প্রান্ত থেকে দল বেঁধে মুসল্লিরা আসতে থাকেন। সাদা পাঞ্জাবি পরে, সুগন্ধি আতর মেখে, জায়নামাজ হাতে নানা শ্রেণি পেশার মানুষের উপস্থিতি ঈদগাহ ময়দানকে সুমোহিত করে তোলে।
তবে ঈদগাহ ময়দানের অভ্যন্তরে ভেতরে অনেকাংশ জায়গা খালি ছিল। সাধারণত ঈদ উল ফিতরের জামাতের তুলনায় উপস্থিতি কম হলেও নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট মুসল্লিরা।
যেমনটাই বলছিলেন পুরান ঢাকার বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম। তিনি এসেছেন শিশু সন্তানসহ। ‘এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা খুবই ভালো ছিল। কোন ধরনের হয়রানিতে পড়তে হয়নি। আল্লাহর ইচ্ছায় ভালোভাবেই নামাজ আদায় করতে পেরেছি। দেশের বানভাসি মানুষ ও রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য দোয়া করেছি। আল্লাহ সব মানুষকে ভালো রাখুন সেটাই প্রার্থনা করেছি। সবাইকে ঈদ মোবারক’-বলছিলেন খায়রুল ইসলাম।
কয়েক বছর ধরে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে মহিলাদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। সকাল থেকে দল বেঁধে অনেক মহিলাদেরও আসতে দেখা যায় ঈদের নামাজ আদায় করতে। একজন এসেছেন তার দুই মাসের শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে।

চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, প্রথমবার ঈদের ময়দানে নামাজ পড়তে এসেছি। ভালো অনুভূতি হচ্ছিলো। তবে একটু বেশি চেক করা হয়েছে। বিষয়টি পছন্দ হয়নি আমার। অনেক সময় নিয়ে চেক করায় অনেক মহিলা নামাজ আদায় করতে পারেননি। পানি নিয়েও প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। তবু ভালো লেগেছে। ঈদের ময়দানে নামাজ আদায় করেছি এটাই ভালো লাগার।
ঢাকার আকাশ ভোর থেকে কেমন যেন গুমোট হয়ে ছিল। নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নেমে আসে টিপটিপ বৃষ্টি। এই বৃষ্টির মাঝেই উৎসাহ নিয়ে ছবি-সেলফি তুলতে দেখা যায় মুসল্লিদের। একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করার মুহুর্তগুলো ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে ফুটিয়ে সু্স্পষ্ট করে তোলে।
নামাজের আগে বয়ানে কুরবানির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য তুলে ধরেন ইমাম বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। খুতবা শেষে মুসলিম উম্মাহ দেশ ও মানুষের মঙ্গল কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।

মোনাজাতে মহান আল্লাহর নিকট দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও মানুষের নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা হয়। দোয়া করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার শহীদ পরিবার ও মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদদের জন্য। দোয়া প্রার্থনা করা হয় দেশের উত্তরাঞ্চলসহ ২৭টি জেলায় ভয়াবহ বন্যা দুর্গত মানুষের জন্য। প্রার্থনায় প্রতিধ্বনিত হয়, ত্যাগ এবং ত্যাগই হলো মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্ট লাভের একমাত্র উপায়। আর কুরবানির মহান শিক্ষা সেটাই- ত্যাগ।








