গুলশানে নিহতদের একজন ইশরাত আকন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী তিনি। তরুণ শিল্পীদের শিল্পকর্ম তুলে ধরতেন নিজের গ্যালারি ইন্সটিটিউট অব এশিয়ান ক্রিয়েটিভের(IAC)মাধ্যমে। শিল্পানুরাগী এই মানুষটি সবসময় ছিলেন অসুন্দরের বিরুদ্ধে। নিজের অভিজ্ঞতায় ইশরাত আকন্দের এই দিকটির স্মৃতিচারণা করেছেন চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী ওবায়দুল কবির রিক্ত।
এক স্ট্যাটাসে চারুকলার ক্রিয়েটিভ সিরামিকসের ছাত্র রিক্ত লিখেছেন,‘এই হাসিমাখা মুখটা আর কখনো কোন শিল্পকর্ম দেখে খুশিতে উদ্বেলিত হবে না। আমাদের এই প্রজন্মের জুনিওররা কখনো জানবে না যে ইশরাত আপু তার নিজের গ্যালারীতে কত তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের এক্সিবিশন করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন । যে সময়টাতে নাকউঁচু স্বভাবের গ্যালারী কর্ণধারেরা জুনিওর শিল্পীদের গ্যালারী বুকিং দিতে চাইতো না।
২০১২ তে ইশরাত আপুর সাথে পরিচয়। গুলশান ১ এর IAC তে এক প্রদর্শনীতে আমার ভাস্কর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন । সেদিন আমার পোর্টফলিও দেখতে চেয়েছিলেন আপু।
আমার কাজের ছবিগুলো দেখে বলেছিলেন- রিক্ত, শিল্পকর্ম হবে সুন্দর আর সাবলীল। যা দেখে মানুষের ভালোলাগা কাজ করবে। তোমার শিল্পকর্মে গ্রেনেড কেনো? নাহ তোমার এই কাজের সাথে ওগুলো মানায় না। ভয়ঙ্কর খুব!! দেখেই ভয় লাগে!!
আমার জীবনের দ্বিতীয় গ্রুপ এক্সিবিশনটা আপুর গ্যালারীতেই। আপু নিজেই সুযোগ করে দিয়েছিলেন জুনিওর শিল্পীদের জন্য । এক্সিবিশনের নামটা খুব সম্ভবত Young Voice হবে। যাইহোক আমি আমার পরবর্তী শিল্পকর্মগুলোতে কখনোই আর কোনো ধরনের ভয়াবহতা তুলে আনিনি।
যে মানুষটা এতটুকু অসুন্দর সহ্য করতে পারতেন না। সেই মানুষটাই অসুন্দরের কাছে পরাজিত হলেন। গতকাল গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জিম্মিদের মধ্যে থাকা ইশরাত আপু মৃত্যুবরণ করেছেন ।
গতকাল রাতেও একবারের জন্য কল্পনা করিনি আমার প্রিয় মানুষগুলোর একজন ভয়ঙ্কর কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে জীবনের শেষ মুহূর্ত পার করছে ।
সরি আপু, আপনার ক্লে পটারিগুলো করে দিতে পারলাম না”।







