কবি নির্মলেন্দু গুণের স্ট্যাটাস লিখে স্বাধীনতা পদক দাবী করা এবং সরকারের সেই পদক দেওয়ার সিদ্ধান্তের ঘোষণার পরে সরগরম পুরো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিষয়টিকে নানান জনে নানানভাবে ব্যাখ্যা করছেন।
এবার ফেসবুকে এই বিষয়ে পোস্ট দিলেন সাবেক সাংবাদিক জহিরুল চৌধুরি।
এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, ৮০-র দশকে হবিগঞ্জে এসেছিলেন হেমাঙ্গ বিশ্বাস। উপমহাদেশের গণ সঙ্গীত সম্রাট হেমাঙ্গকে তখন হবিগঞ্জের অনেকেই চেনেন না। পরিচয়হীনতার সঙ্কটে নিজের আক্ষেপ জড়িয়ে হেমাঙ্গ সেদিন গেয়েছিলেন-
“হবিগঞ্জের জালালী কইতর,
সুনামগঞ্জের কুরা,
সুরমা নদীর গাঙ্গচীল আমি শূন্যে দিলাম উড়া।
শূন্যে দিলাম উড়া রে ভাই, যাইতে চান্দের শ’র (শহর)।
ডানা ভাইঙ্গা পরলাম আমি কইলকাত্তার উপর।
তোমরা আমায় ছিনো নি?”
(তোমরা আমায় চেনো কি-না?)
এরপর ফেসবুক পোস্টে সাবেক এই ছাত্রনেতা লিখেন, বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে শেকড় ছেড়া বেশকিছু ভাসমান মানুষ পয়দা হয়েছে। এরা গ্রাম বাংলার পাখ পাখালি, গাছ গাছালি আর শেকল ভাঙ্গার আধুনিক কবি নির্মলেন্দু গুণকে চেনে না। তাই গুণ’দা স্মরণ করিয়ে দিলেন তিনি এখনো বেঁচে আছেন। পুরস্কার দিয়ে তার এই বেঁচে থাকাকে অন্তত স্বীকৃতি দিক, যাদের হাতে এই স্বীকৃতির নৈবেদ্য। যারা গুণ’দাকে স্যাটায়ার করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি- খোঁজ নিয়ে দেখুন গুণ’দা হয়ত পুরষ্কারের একটি টাকাও নিজের ভোগ বিলাসে ব্যয় করবে না। নিজের বাপ-দাদার ভিটেতে এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য যে পাঠাগার আর তথ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, তার জন্যেই অর্থের প্রয়োজন।
নির্মলেন্দু গুণকে উদ্দেশ্য করে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এই লেখক লিখেন, গুণ’দা আপনি দীর্ঘজীবী হউন। আপনি এই অকৃতজ্ঞ সরকারি লোকদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মাত্র- ‘তোমরা আমায় ছিনো নি?’ জগতের সব পুরস্কার আপনার প্রাপ্য হউক।







