তুরস্কে শুক্রবারের সেনা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে এরদোগান সরকার। এখন পর্যন্ত অভ্যুত্থান চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ৬ হাজার লোককে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই সামরিক বাহিনীর সদস্য। তবে নজীরবিহীন ভাবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদেরও আটক করা হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশটির প্রায় ৩ হাজার বিচারক এখন বন্দি।
ফেতুল্লাহ গুলেন এই অভ্যুত্থানের হোতা অভিযোগ করে তাদেরকে ‘ভাইরাস’ বলেছেন প্রসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তাদের দূর করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়ার মধ্যেই চলছে গণগ্রেফতার এবং নির্যাতন। আটককৃতদের নির্যাতনের চিত্র প্রকাশিত হয়েছে রয়টার্সসহ বিশ্বগণমাধ্যমে।
গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে মধ্যে ইনসারলিক বিমানঘাঁটির কমান্ডার রয়েছেন। এই ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্র ইসলামিক স্টেট বা আইএস এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ব্যবহার করে থাকে। এরদোগানের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। জড়িত সেনাদের ধরতে আজও বিভিন্ন সেনা ঘাঁটিতে অভিযান চালানো হয়েছে। আরো অনেক বিচারক এবং আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আটকাদেশ জারি করা হয়েছে।
তুরস্কের বিচারমন্ত্রী বেকির বোজদাগ বলেছেন, প্রায় ৬ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। আটক এসব ব্যক্তির মধ্যে সামরিক বাহিনীর বেশ ক’জন উর্ধতন কর্মকর্তাও রয়েছেন। রয়েছেন প্রায় তিন হাজারের মতো বিচারক। আজ সকালেও সামরিক বাহিনীর কয়েকটি ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে সৈন্যদের গ্রেফতার করে মুখোশধারী বিশেষ বাহিনী। দেশটির ডেনিজলি প্রদেশের একটি ঘাঁটি থেকে ৫০ জন সৈন্যকে আটক করা হয়েছে। গ্রিসে পালানো আট সেনা কর্মকর্তাকেও খুব শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অভ্যুত্থানের জন্য সরাসরি বিরোধী মতাদর্শের ফেতুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করছে এরদোগান সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে গুলেনকে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন এরদোয়ান। ফেতুল্লাহ গুলেন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ৭৫ বছর বয়সী গুলেন গত ১৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে তার বরাত দিয়ে জানানো হয়, তুরস্কে কারা গুলেনের অনুসারী সে বিষয়ে তার নিজেরই কোন ধারণা নেই। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, তুরস্ককে এবিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ দিতে হবে। তারপরেই এই অনুরোধ বিবেচনা করে দেখা হবে।
এই অভ্যুত্থান চেষ্টার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। অভ্যুত্থানের এই প্রচেষ্টাকে তিনি উল্লেখ করেছেন ‘আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া উপহার’ হিসেবে কারণ সেনাবাহিনীতে শুদ্ধি অভিযান চালানোর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তাই অভ্যুত্থানকারীদের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। কারণ মৃত্যুদণ্ডের বিধান ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন জামায়াত ঘরানার দল জাস্টিস পার্টির নেতা ও ‘অভ্যুত্থান’ ব্যর্থ করে নায়ক হয়ে যাওয়া এরদোগান।
সরকার উচ্ছেদ করে ক্ষমতা দখলের দাবিতে শুক্রবার রাতে পার্লামেন্ট ভবনে বোমা হামলার মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থান শুরু করে তুর্কি সেনাবাহিনীর একাংশ। ‘শান্তি পরিষদ’ এর নামে সান্ধ্য আইন ও সামরিক শাসন জারির ঘোষণা দেওয়া হয় বিবৃতিতে।
তুরস্কে ক্ষমতাসীন জামায়াত ঘরানার দল জাস্টিস পার্টি দেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করছে অভিযোগ এনে অভ্যুত্থানকারীরা কৃর্তৃত্ববাদের পাল্টা গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিল।







