‘ঈদে দেশে ফিরবো, মেহেদী লাগাব। কিন্তু সেই রঙে লেগে থাকবে আমার স্বজন হারানোর কষ্টের কথা’, কথাগুলো বলছেন অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। গুলশান হলে আর্টিজান ঘটনার দিন তিনি মুম্বাইয়ের থাকলেও তার ঢাকার বাসা থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে জঙ্গিদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জন।
ওই রাতের পর থেকে তার বাসার সবাই ট্রমাটাইজড। কারণ ওই হামলায় ফারিয়াও তার এক প্রিয়জনকে হারিয়েছে (ইশরাত আকন্দ)। এমনটি জানিয়ে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকাকে বলেন, আমার পরিবার এক অভিভাবককে হারিয়েছে। এ আমার স্বজন হারানোর যন্ত্রণা।
ওই বিষয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া বলেন, এখন শুধু মনে ভয় হচ্ছে, কারণ আমিওতো জঙ্গিদের টার্গেট হতে পারি। কোনও দিন হয়তো জঙ্গিরা বলবে, ‘তুমি মুসলমান, তুমি সিনেমা করছ কেন? তাই তুমিই টার্গেট। কারণ হিজাব পড়েনি বলে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ইশরাত আকন্দকে। তাহলে আমি তো হিজাব পরি না। আসলে আমরা এখন এমন একটা সময়ে আছি, যেখানে কারও ওপর জোর করে তুমি কিছু চাপিয়ে দিতে পারে না। কিন্তু, এ জন্য কাউকে খুন করে ফেলবে?
নুসরাত আরও বলেন, আমি মনে করি, সব ধর্মেরই এক কথা। মিথ্যে বলো না। সত্য থাকো। বড়দের সম্মান কর। তুমি যদি সত্যিই জেহাদ করবে, ধর্মের জন্য লড়াই করবে, তা হলে মানুষকে বোঝাতে পার। খুন করবে কেন?
গুলশানের সেই ঘটনার দিন দেশে না থাকলেও মুম্বাইয়ে পরিবারের জন্য চিন্তায় পুরো কাটিয়েছেন ফারিয়া। দেশ থেকে মায়ের ফোনে প্রথম জানতে পারেন ওই নারকীয় ঘটনার কথা। তারপরে সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার তীব্রতা দেখেছেন মুম্বাইতে বসে।
এ বিষয়ে নুসরাত বলেন, একে একে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার…। ছবি দেখলাম। আম্মুর গলাটা ফোনে কেন কাঁপছিল, আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল। দেশ থেকে বহু দূরে মুম্বাইয়ের সাত তারা হোটেলে বসে ভয়ে আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল। এত রক্ত…! একটাই কথা মনে হল, আমিও তো ওখানে থাকতে পারতাম!







