তপ্ত ফাগুন হাওয়ায় পোড়ে পাইকগাছা। সন্ধ্যার আমন্ত্রণ শিবসার পাড়ে। ঘেরে ঘিরে থাকা দখিনা জমিনে নোনা অভিমান। শিল্পী, শিবসার বিষন্ন সন্ধ্যায় কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুপরিসরে শিল্পের আড়াল নেন। কখনো নদীর পাড়ে কেওড়া ছায়ায় নদীতে নামার অপেক্ষারত নৌকার পাশে দাঁড়ান শাড়ির সহজিয়া স্নিগ্ধ ভংগিতে। আবার তপ্ত ফাগুনে হাওয়ায় পুড়ে যেতে যেতে ঢেকে নেন চোখ রোদ চশমায়। আর মুখ ঢেকে যায় নীলাভ ওড়নায়। পরণে লাল ফতুয়া। অপেক্ষায় থাকে খোলা জানালার হলুদাভ উঠানে একক টবে ত্রয়ী গাদা ফুল।
খুলনার পাইকগাছায় চলছে তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবির শুটিং। ১০ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে শুটিং পর্ব। ১২ মার্চ থেকে ইউনিটে যোগ দিয়েছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নির্মিতব্য চলচ্চিত্রটিতে দীপ্তি চরিত্রে অভিনয় করছেন তিশা। থাকবেন বেশ কয়েকদিন।
চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে বেশ নিবিড় কথোপকথন হয় ’হালদা’ অভিনেত্রীর। তার বিস্তারিত অন্য সাক্ষাৎকারে উঠে আসবে। একটি আভাস শুধু দিয়ে রাখা যায়। তিনি বলেন, আমার অভিনয় জীবন কোন নির্দিষ্ট স্ট্র্যাটেজিতে চলেনি। তবে অভিনয় শিল্প আমাকে আজকের তিশা বানিয়েছে যেমন, ‘তেমনি আমার ইচ্ছাশক্তি আজকের পর্যায়ে নিয়ে এসেছে আমাকে। এ শিল্পের মানুষদের কাছে আমি ঋণি। কারণ যখন আমার বাবা মারা যান তখন যতটা না আত্মীয় স্বজনরা আমার পাশে দাঁড়িয়েছে তার চাইতে বেশি দাঁড়িয়েছে অভিনয় শিল্পের মানুষেরা। এ শিল্প ছেড়ে আমি কোথায় যাব?’

শাড়ি পরিহিত শিবসা পাড়ের ছবি অথবা চশায় চোখ আর ওড়নায় ঢাকা মুখ এবঙ লাল ফতুয়ার তিশা-দুটি ছবি দেখিয়ে তিশার কাছে জানতে চাওয়া হয়। কোনটি আসল তিশা। তিনি বলেন, দুটোই আমি। একটি সচেতনভাবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো তিশা অন্যটি আলোকচিত্রীর অনন্য সময় জ্ঞান এবং ক্লিক। তবে দুটো ছবির তিশা কিন্তু শিল্পের তপ্ত ফাগুন হাওয়ায় অনবরত পুড়ে চলে।
‘ফাগুন হাওয়ায়’ অভিনয় প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘গল্পটি এত সহজ কিন্তু এতটা গভীর তা বলে বোঝানো যাবে না। আর ভাষা আন্দোলনের আবেগ বা গভীরতা কতটা সহজিয়া ভঙ্গীতে যে বলছেন তৌকীর ভাই তা ভাবলে অবাক লাগে। তার পরিচালনা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই।’
ছবি : সোহান হাওলাদার এবং হাসান আহমেদ







