মার্কিন তিন নাগরিককে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছে নর্থ কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার এক টুইট বার্তায় বিষয়টি জানান।
ট্রাম্প ও নর্থ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের ঐতিহাসিক বৈঠককে সামনে রেখে নর্থের এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এর সাথে এরা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলে তাদের ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানাবেন তিনি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্প-মুন বৈঠকের বিষয়ে আলোচনার জন্য এখন পিয়ংইয়ং এ রয়েছেন পম্পেও।

নর্থ কোরিয়া কারাদণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়া কিম হাক-সং, টনি কিম এবং কিম ডং-চু রাষ্ট্রবিরোধী কাজের জন্য দণ্ডিত হয়েছিলেন। তাদের লেবার ক্যাম্পে রাখা হয়েছিলো।
এদের মধ্যে ডং-চুকে ২০১৫ সালে এবং অন্য দুইজনকে গত বছরেই গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কারাদণ্ডের বিষয়টিকে মানবাধিকারের লঙ্ঘণ অ্যাখ্যা দিয়ে বিশ্বজুড়ে এর ব্যাপক সমালোচনা হয়।
বুধবারের টুইটে ট্রাম্প জানান, তারা (মুক্তি পাওয়া তিনজন) সুস্থ রয়েছেন। কিম জং উনের সাথে বৈঠকের বিষয়ে দিন ও স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরবর্তীতে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে সারাহ স্যান্ডার্স জানান, ট্রাম্প এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন এবং তা নর্থ কোরিয়ার ইতিবাচক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।
ছয় সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো নর্থ কোরিয়া সফরের আগে পম্পেও আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, নর্থ কোরিয়া সঠিক কাজটিই করবে এবং আটককৃতদের মুক্তি দিবে।
এই মাসের শুরুতে এদের কারাগার থেকে পিয়ংইয়ংয়ের একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তখন থেকেই ধারণা ছিলো যে তাদের শীঘ্রই মুক্তি দেওয়া হবে।
এর আগে, এপ্রিলের শেষদিকে পম্পেও নর্থ কোরিয়া গিয়েছিলেন, যা ছিল ২০০০ সালের পর কোনো শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার প্রথম নর্থ কোরিয়া সফর।
এপ্রিলের শুরুতেই সরাসরি বৈঠকের ব্যাপারে নর্থ কোরিয়ার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বিশ্বকে বিস্মিত করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে দায়িত্বরত কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এটাই হবে নর্থ কোরিয়ার কোনো শীর্ষ নেতার প্রথম মুখোমুখি আলোচনা।
গত ২৭ এপ্রিল চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রতিবেশী দেশ নর্থ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট কিম জং উন এবং সাউথ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনসহ দেশ দুইটির শীর্ষ নেতারা সীমান্তবর্তী পানমুনজম গ্রামে ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হন। তারা কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার পাশাপাশি ওই উপদ্বীপে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সম্মত হন।







