মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি শিক্ষা, সেই শিক্ষার দাবী নিয়ে সেশনজটের অভিশাপ থেকে বাঁচতে রাস্তায় নেমেছিলাম, আমার তো কোন দোষ ছিল না, ছোট্ট বেলায় বাবা হারিয়েছি, অনেক কষ্টে মা লালন পালন করে বড় করছে তার পরিণামে এখন আমি চোখ হারাতে বসেছি।
রোববার বিকেলে আগারগাঁওয়ের চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালের নিজ কক্ষে বসে এমনভাবেই তার দুঃখের কথা চ্যানেল আই অনলাইনকে শোনালেন পুলিশের টিয়ার শেলে চোখ হারাতে বসা সিদ্দিকুর রহমান।
তিনি বলেন: মা কে কথা দিয়েছিলাম আর দুই টা বছর কষ্ট করতে এরপর চাকরি করব আর কোনো অভাব থাকবে না, আমার বড় ভাই এসএসসি পাশ করেই রড মিস্ত্রির কাজে নেমে পড়ে, আমার পড়ালেখার জন্য মা-ভাই নিবেদিত ছিল এই ঈদে তার ছেলে মেয়েকে কিছুই দিতে পারে নাই, আমি জমানো টাকা থেকে ভাতিজা ভাস্তিকে জামাকাপড় কিনে দিয়েছিলাম।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন করে সিদ্দিক বলেন: আমি নিজের চোখ ফিরে পেতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার দাবি আমি সুস্থ হয়ে কর্মক্ষেত্র চাই, আমি কারো দানে বাঁচতে চাই না, আমি কাজ করে আমার পরিবারকে সাহায্য করতে চাই। যারা আমাকে তিল তিল করে বড় করছে তাদের জন্য কিছু করতে চাই, আমার মা ২০ বছর বয়সে বিধবা হয়েছেন, গরীবের ঘরের সন্তান আমি তারপরও আমার পরিবার আমাকে সহায়তা করছে। আমি ভালো হয়ে আমার পরিবারের জন্য কিছু করতে চাই।
সিদ্দিকুরের তিতুমীর কলেজের বন্ধুরা ছাড়াও তার পাশে রয়েছে আরও ছয়টি কলেজের শিক্ষার্থী বন্ধুরা। হাসপাতালের করিডোরে চিন্তিত সবাই, মনে যেন একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসছে, বন্ধু সিদ্দিকুর দেখতে পাবে তো?
সিদ্দিকুরের বন্ধু ফরিদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: নিজেদের ছাত্র জীবনের ন্যায্য দাবি আদায় করতে গিয়ে আমাদের বন্ধু চোখ হারাতে বসেছে। হাসপাতাল থেকে সবাই সহযোগিতা করছে, অনেক শিক্ষার্থীরা ফান্ড করে যে যার মতো টাকা পয়সা জোগাড় করে দিচ্ছে বন্ধুর উন্নত চিকিৎসার জন্য। গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই আপনি আমদের বন্ধুর উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করুন। আমাদের বন্ধু আমাদের একটু হলেও যেন দেখতে পায়।
শনিবার সিদ্দিকুরের দুই চোখেই অপারেশন করা হয়। রোববার সকালে চিকিৎসকরা সিদ্দিকুরের চোখের অবস্থা নিয়ে বোর্ড মিটিং করেন। অপারেশন শেষে ডাক্তাররা জানান, তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবার আশা ক্ষীণ।
জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালের পরিচালক ডা. গোলাম মোস্তফা চ্যানেল আই অনলাইন বলেন, সিদ্দিকুরের দুই চোখেই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, ডান চোখটা পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, ফলে ডান চোখ প্রায় অকেজো হয়ে গেছে। বাম চোখে খানিকটা আশা আছে দেখার, কারণ বাম চোখ ৮০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমরা তাকে অবজারভেশনে রেখেছি। তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
গত (২০ জুলাই) বৃহস্পতিবার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনের সড়কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত রাজধানীর সাতটি কলেজ ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা রুটিনসহ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন।
একপর্যায়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করা হয়। ওই দিন পুলিশের ‘কাঁদানে গ্যাসের শেলে’ চোখে গুরুতর আঘাত পান তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর।
ছবি: জাকির সবুজ








