সাজানো এবং পাতানো নির্বাচন করতেই বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে সরকার মামলা দিচ্ছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ করো হয়েছে তার জবাব দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেছেন: মামলার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। পুলিশ যে অভিযোগ এনেছে তা গুরুতর। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ভিসির বাড়িতে যে হামলা, নিরাপদ সড়কের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শেষ দিকে ধানমন্ডিতে যে হামলা হয়েছিলো তার থেকেও বড় হামলার চিন্তা-ভাবনা চলছে।
সেই সঙ্গে বিএনপি নেতাদের নির্বাচনের আগে মামলা দিয়ে চেপে ধরার কৌশল আওয়ামী লীগের নেই বলে জানান কাদের।
তিনি বলেন: বিএনপি এখন মিথ্যা মামলার কথা বলছে! তাদের কি মনে নেই আমরা ডজনে ডজনে মামলা কাঁধে নিয়ে নির্বাচনে গিয়েছিলাম। শুধু তারেক জিয়ার-ই এতো মান, মানহানি মামলা করেছিলো ৩২টি!
মঙ্গলবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের রাসেল স্কয়ারে আওয়ামী লীগের সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন: মামলা-গ্রেফতারের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচন নির্বাচনের পথেই চলবে, আর মামলা মামলার পথে চলবে। আমরা ইলেকশনের সময় ডজনে ডজনে মামলা নিয়ে ইলেকশন করেছি। হাজার হাজার মামলা, প্লেট চুরির মামলাও তারা আমাদের দিয়েছে বিএনপি ভুলে গেছেন?
‘ওই যে প্লেট চুরির মামলা আর ওই যে মুনতাসির মামুন, শাহরিয়ার কবির, শেখ সেলিমদের বিরুদ্ধে কি মামলা করেছিলো তারা?তারা নাকি ময়মনসিংহে সিনেমা হল পুড়িয়েছে, বোমা মারতে গেছে!হুমায়ুন আজাদ যখন বোমার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত, আমাদের নেত্রী তখনকার বিরোধী দলের নেত্রী…তার বিরুদ্ধেও হুমায়ন আজাদের ওপর হামলার জন্য মামলা হলো। করলো কারা?’
২০১৪’র মতো বিএনপি আবারও সহিংস হয়ে উঠতে পারে আশংকা প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংগঠনিক এ নেতা বলেন:বিএনপি যদি আন্দোলনের নামে নাশকতা করে, ২০১৪ সালের মতো বোমা সন্ত্রাস করে অথবা সহিংসতার আগুন ছড়ায়, তাহলে আমরা জনগণকে সতর্ক করে দেবো। দেশে এখন শান্তি আছে, বিএনপি এই শান্তিকে বিনষ্ট করতে চাই। পরিবেশ নষ্ট করতে চাই। ইলেকশনের জন্য এর চেয়ে ভালো পরিবেশ আর নেই। তবে মনে রাখতে হবে বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে ২০১৪ সালের মতো সন্ত্রাস এবং অপকর্মের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।
সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য এখন বিশ্ব সমাদৃত মন্তব্য করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন: আমরা জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেবো আর সতর্ক করবো উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাবিশ্বে সমাদৃত এবং প্রশংসিত। আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রীর যে উচ্চতা গত ৪৩ বছরে আর কেউ সেই উচ্চতায় আসীন হতে পারেননি।
যোগ করেন: জাতিসংঘের মহাসচিব গত দু’দিন আগে বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুনিয়ার অন্যান্য প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপ্রধান এরা রোল মডেল হিসেবে প্রপোজ করতে পারে। এটা গর্বের, এর চেয়ে বড় সম্মান আর কি হতে পারে?
বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে কাদের বলেন: বিএনপি জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণ পত্রের কথা বলে জাতির সঙ্গে মিথ্যাচার করেছে। যখন তারা জাতিসংঘে ছিলো তখন জাতিসংঘের মহাসচিব ঘানায় একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছিলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব জাতিসংঘে গিয়ে অনেক অনুনয়-বিনয় করে জাতিসংঘের তৃতীয় শ্রেণীর একজন কর্মকর্তার সঙ্গে প্রতিনিধি দল নিয়ে বসেছেন। জবাব কি পেলেন? দেখা যাক ..দেখা যাবে।
জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণের কথা বলে বিএনপি জাতির সঙ্গে মিথ্যাচার করেছে অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন: আমি আপনাদের জিজ্ঞাসা করতে চাই, যারা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করে আমারা তাদের কি বলব? ভুয়া, ভুয়া, ভুয়া; বিএনপি হচ্ছে ভুয়া। ভুয়া বলবো নাতো কি বলবো!
একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগে থেকে যারা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছে তাদের উদ্দেশ্যে কাদের বলেন: সবাই যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী এটা ঠিক না। অনেকে হয়তো নেত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেষ্টা করবে। এ জন্য হয়তো মনোনয়ন চাইবে। এ অসুস্থ প্রতিযোগিতা যারা করে তাদের এবার ক্ষমা নেই। অসুস্থ প্রতিযোগিতা অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেই বিবেচিত হবে।








