এসেক্স থেকে তামিম ফিরে আসার পর পূর্ব লন্ডনে বসবাসরত মুসলিমদের নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছে বিশ্বগণমাধ্যম। ডেইলিমেইল তাদের এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘সত্য যাই হোক না কেন, এই ঘটনা ক্রিকেট এবং পূর্ব লন্ডনে বসবাসরত মুসলিমদের জন্য বড় একটি ধাক্কা।’
ইংলিশ কাউন্টি দল এসেক্সের হয়ে এক ম্যাচ খেলেই ‘ব্যক্তিগত কারণে’ দেশে আসার ঘোষণা দেন তামিম। একদিন বাদে দেশের কয়েকটি গণমাধ্যম দাবি করে সপরিবারে তামিম বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন, ‘ইংল্যান্ডের রাস্তায় তামিম এবং তার পরিবারকে কয়েকজন ধাওয়া করে। দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়ে বেঁচেছেন তারা। এ ঘটনার পর আতঙ্কিত তামিম রাতেই লন্ডন থেকে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে দেশের বিমান ধরেন।’ নাম প্রকাশ না করে এক বিসিবি পরিচালকের বরাত দিয়ে ওই খবর প্রকাশ করে পত্রিকাগুলো।
এরপর তামিম নিজের ফেসবুক পেজে বলেন, ‘ওই খবর সঠিক নয়। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত কারণেই আমি দেশে ফিরছি।’
তামিম অস্বীকার করলেও বাংলাদেশি গণমাধ্যমের মতো বিদেশি গণমাধ্যমও রহস্যের গন্ধ খুঁজে পেয়েছে। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম দাবি করছে, ইংল্যান্ডের রাস্তায় বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন তামিম এবং তার পরিবার।
যুক্তরাজ্যের ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’ বিসিবির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের রাস্তায় তামিমের সঙ্গে অসম্মানজনক কিছু একটা হয়েছে। যেটা বর্ণবাদী আচরণের ভেতর পড়ে। তবে অ্যাসিড আক্রমণের খবরটি ঠিক নয়।
ডেইলিমেইল বলছে, ‘স্টার্টফোর্ডের যে বাসায় তামিম উঠেছিলেন, তার সামনের রাস্তায় এমন একটি ঘটনা ঘটে যা তাকে দেশে ফিরতে বাধ্য করে।’
পত্রিকাটি তাদের প্রতিবেদনে আরও জানায়, ‘একটি রেস্টুরেন্টের পাশে তামিমকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী কথাবার্তা বলা হয়। অলিম্পিক পার্কের কাছে ওই ঘটনা ঘটে।’
তাদের দাবি, প্রবাসী মুসলিম বাঙালিদের কথা চিন্তা করে তামিম এবং এসেক্স দুপক্ষই ঘটনাটি চেপে যেতে চেষ্টা করে।
প্রায় এক দশক ধরে ইংল্যান্ডে বসবাসরত এক প্রবাসী বাঙালি ফেসবুকে আলাপকালে চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘পূর্ব লন্ডনে আমার এক ভাই থাকে। তারা মিডিয়ার মাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছে। তাদের সবাইকে সাবধানে থাকতে বলেছি।’
ইংল্যান্ডে সম্প্রতি মুসলমানদের ওপর বর্ণবাদী আচরণ বেড়ে যাচ্ছে। টি-টুয়েন্টি ব্লাস্টে খেলতে যাওয়ার আগে থেকেই তামিম বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন।
‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ ১৩ জুলাই ‘হেট ক্রাইম’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, যেসব এলাকায় মসজিদ আছে কিংবা নারীরা হিজাব পরেন, সেখানে এই ঘটনা বেশি ঘটছে। ফেব্রুয়ারিতে একটি বারের পাশে দুই ভারতীয়কে গুলি করা হয়। একজন শ্রীনিবাস কুচিভোতলা। যিনি পরে হাসপাতালে মারা যান। অ্যাডাম পুরিনটন নামের এক ব্যক্তি তাদের গুলি করে। গুলি করতে করতে সে বলছিল, ‘আমার দেশ থেকে তোরা বেরিয়ে যা।’

গত মাসের ২১ তারিখ জামিল মোক্তার এবং রেশহাম খান নামের দুই চাচাতো ভাইয়ের ওপর ওই পূর্ব লন্ডনে অ্যাসিড ছোড়া হয়। তারা দাবি করেন, মুসলিম হওয়ার কারণেই তাদের ওভাবে আক্রমণ করা হয়। ওই দিন রেশহামের ২১তম জন্মদিন ছিল। হাসপাতালে এখনো তারা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
ইস্ট হ্যামের এমপি স্টিফেন টিমস এ ধরনের ঘটনাকে ‘বড় অপরাধ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে দ্রুত সমাধানের কথা বলছেন, ‘এটা রীতিমতো বড় অপরাধ। সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এমন ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। দেশটির পুলিশের পক্ষ থেকে মুসলমানদের আশ্বস্ত করে বলা হচ্ছে, এটা নতুন ধরনের অপরাধ। সিরাজুল ইসলাম নামের এক প্রবাসী এই প্রতিবেদকে বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে তামিমের ঘটনা সবার চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।’








