নাটকীয় ঘটনার জেরে গতবছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি তামিম ইকবাল। অথচ আসর শুরুর আগ পর্যন্ত বাঁহাতি ওপেনারই ছিলেন অধিনায়ক। পরে আর ক্রিকেটে ফেরা হয়নি তার। অনেকটা আড়ালে রেখেছিলেন নিজেকে। চলতি সপ্তাহে অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা যখন বিসিবিতে পা রেখেছেন, সঙ্গে ছিলেন তামিম। এরপর থেকেই আলোচনা, তামিম ক্রিকেটে ফিরবেন নাকি বোর্ড পরিচালনায়?
বুধবার বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেয়া ফারুক আহমেদ মনে করেন, দুই দিকেই তামিমের যোগ্যতা রয়েছে। খেলোয়াড় হিসেবে আরও দুই বছর ওয়ানডে দলে খেলার সম্ভাবনা দেখেন তিনি। আর খেলা একেবারে ছেড়ে দিতে চাইলে বিসিবিতে কাজ করার উপযুক্তও মনে করেন ফারুক।
‘এক্ষেত্রেও কিন্তু খেলোয়াড়ের চিন্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তামিম কী চিন্তা করছে, প্রথমে তার সঙ্গে কথা বলা দরকার। এদিক-সেদিক না ঘুরিয়ে। তামিম খুব সেন্সেবল ছেলে। আমার মনে হয় ওয়ান অব দ্য বেস্ট উই হ্যাভ এভার প্রডিউসড ইন বাংলাদেশ।’
‘আপনি যদি আমাকে বলেন, আমি দেখতে চাই তামিম আরও দুই-তিন বছর খেলবে। এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত। আমার ব্যক্তিগত অভিমতে কিন্তু কিছু যায় আসে না। ওর ফিটনেস হবে, টিমে আসতে হলে কী করতে হবে, যে বিভাগগুলো আছে। সভাপতি হিসেবে অফ দ্য রেকর্ড যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি কিন্তু দেখতে চাই আরও দুই বছর ক্রিকেট খেলুক। আমি চাই আর কী।’
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক আরও বললেন, ‘কোন ফরম্যাটে খেলবে, আমার মনে হয় ৫০ ওভার বেস্ট। লঙ্গার ভার্সন সবচেয়ে ভালো হতো অভিজ্ঞতাসহ। কিন্তু এটার যে কষ্ট, হয়তো ওর শরীর সে ধকল নিতে পারবে না। আমি জানি না। এটা তামিমই বলতে পারবে।’
‘খুব ভালো হয় যদি ও খেলতে পারে। আর যদি খেলতে না পারে, বোর্ডে আসে, তাহলে আমি খুব খুশি হবো। কারণ দেখেন, তামিম আমার অন্তত বিশ বছরের ছোট হবে, যদি বেশি না হয়। কাছাকাছি হয়তো। সে সাবেক অধিনায়ক, তার মানে তার লিডারশিপ কোয়ালিটি আছে।’
‘এসব ছেলে যত আসবে, তাদের যদি আমরা তাড়াতাড়ি কাজে লাগাতে পারি, তাহলে কিন্তু অনেক আইডিয়া আসবে। অনেক ভালো কিছু করতে পারবে। দেখি ওর সঙ্গে কথা বলে ব্যক্তিগতভাবে, ওর পরিকল্পনা কী। এভাবে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।’ যোগ করেন ফারুক।
বিগত সরকারের সকল মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের উপরই জনরোষ তৈরি হয়েছে। যার বাইরে নন সাকিব আল হাসানও। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট খেলতে দীর্ঘসময়ের জন্য দেশের বাইরে যান সাকিব। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাকিস্তান সফরে থাকা বাংলাদেশ দলে যোগ দেন। বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ জানালেন, টেস্ট সিরিজের পরই সাকিবকে নিয়ে পলিসিগত সিদ্ধান্ত হবে।
বিদেশ বিভূঁইয়ে থেকে খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন কিনা সেটি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। প্রশ্ন আছে নিরাপত্তা নিয়েও। সাকিব অবশ্য এবছর বাংলাদেশ দলের সব টেস্ট খেলবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচককে। টেস্ট সিরিজের পরই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে সাকিবের।







