অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ তাপস পালের মৃত্যুর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার (বিজেপি) দায়ি। তাপস পালের শেষ বিদায়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসে এমন মন্তব্যই করলেন পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। তবে তার এমন মন্তব্যের পর পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।
রবীন্দ্র সদনে তাপস পালকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে বুধবার দুপুরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেন মমতা। এসময় তিনি তাপস পালসহ তৃণমূলের আরো দুই নেতার কথাও বলেন। মমতার ভাষ্য, ‘বিজেপির চাপে পড়ে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ক্ষত বিক্ষত হয়ে গিয়েছে আমাদের তিন জন।’
রোজভ্যালি কাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তাপস পাল। বন্দি অবস্থাতেই দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তাপস। দীর্ঘ ১৩ মাস বন্দি থাকার পর জামিন হয় তার।
সে বিষয়টি উল্লেখ করে মমতা মোদি সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাপস পালের মৃত্যু আবার প্রমাণ করল, একটা এজেন্সির অত্যাচারে একটা মানুষ নিজেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল, ক্ষতবিক্ষত ছিল, হয়তো মৃত্যুর আগে জানলও না ওর কী অপরাধ ছিল…!কী খেলা আমি জানি না। অন্যায় করলে আইন অনুযায়ি ব্যবস্থা নিন, বিচার করুন। এতদিন জেলের মধ্যে বন্দি করে রাখার কী কৌশল এটা! কেন্দ্রের জঘন্য রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আচরণ থেকে কেউই রেহাই পাচ্ছে না।
মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পরেই পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী ও কণ্ঠশিল্পী বাবুল সুপ্রিয়। তিনি বলেন, ‘তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানাচ্ছি। রবীন্দ্রসদনে একজন শিল্পীর মৃতদেহ শায়িত রয়েছে, তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নোংরা রাজনীতি টেনে এনেছেন মমতা।’
তাপসের মৃত্যুর জন্য উল্টো মমতাকেই দায়ি করে বাবুল বলেন, তাপসের যখন খারাপ সময় ছিলো তখন দিদিকে পাশে পাননি। ভুবনেশ্বরে সুদীপকে দেখতে গিয়েছিলেন দিদি, পাশের ঘরে তাপস পাল ছিলেন, কেন দেখা করলেন না? যে কারণে তাপস পালের মানসিক চাপ ছিল, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।
মঙ্গলবার ভোররাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পাল। মুম্বাইয়ের হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। অভিনেতার মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মঙ্গলবার রাতেই মুম্বাই থেকে কলকাতায় তাঁর মরদেহ নিয়ে আসা হয়। বুধবার সকাল থেকে রবীন্দ্রসদনে সর্ব সাধারণ তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর নিয়ে যাওয়া হয় কেওড়াতলা শ্মশানঘাটে। সেখানেই তার শেষকত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।








