চট্টগ্রাম থেকে: বোলিংয়ে এসে মার খাচ্ছেন সবাই। চার-ছক্কার বৃষ্টি নামিয়ে প্রতিপক্ষ দল গড়ছে রানের পাহাড়। অথচ নিজ দলের সবচেয়ে সফল বোলারকেই আক্রমণে আনছেন না অধিনায়ক। শেষপর্যন্ত আর বোলিং করার ডাকই পাননি খুলনা টাইটানসের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম! অন্যদিকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের ওপেনার এভিন লুইস বীরদর্পে মাঠ ছাড়লেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলকে ২৩৮ রানের বোঝা চাপিয়ে।
আগের দুই ম্যাচে তিনটি করে উইকেট নেয়া তাইজুল এবারের বিপিএলে টাইটানসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। তারপরও কেনো তাকে দিয়ে বোলিং করানো হয়নি সেটির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি ম্যাচ শেষে অধিনায়ক সংবাদ সম্মেলনে না আসায়।
দলের বিদেশি ক্রিকেটার ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে আসতেই জানতে চাওয়া হয়, তাইজুলকে কেনো বোলিংয়ে ডাকা হয়নি। এই উইন্ডিজ ক্রিকেটার জানালেন, এটি তার জানার কথা নয়। কেননা মাঠের সব সিদ্ধান্ত অধিনায়কের।
প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টাই করলেন ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার, ‘আমি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না, কারণ আমি দলের অধিনায়ক নই। কে বল করল, কে করল না এটা অধিনায়কই বলতে পারবে।’
পরের প্রশ্নে অবশ্য একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন ব্র্যাথওয়েট, ‘রিয়াদ চার ওভার করেছে এবং সে ভালো বল করেছে। তাদের দুইজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানই ইনিংসের অধিকাংশ সময়জুড়ে ব্যাটিং করেছে। ডানহাতি ব্যাটসম্যানরা খুবই কম ব্যাটিং করেছে। এনামুল প্রথম বলেই আউট হয়ে গেছে। আফ্রিদি চারে খেলেছে এরপর শামসুর বাকিটা টেনে নিয়েছে। তাই আমি বলতে পারছি না সে কেনো বল করেনি। হয়তো ছোট বাউন্ডারি আর দুই বাঁহাতি ব্যাটিংয়ে থাকলে স্পিনারদের দিয়ে বল করানো কঠিন।’
বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের সামনে বাঁহাতি স্পিনার আনা যাবে না, এ তত্ত্ব নতুন নয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে। এর আগে জাতীয় দলেও দেখা গেছে এমনটা। বিশ্বসেরা বাঁহাতি স্পিনারদের একজন সাকিব আল হাসানও অনেক ম্যাচেই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের সামনে বোলিং করতে আসেন না। এমন উদাহরণ অসংখ্য। যদিও তা কতটুকু কাজে দেয় তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
সোমবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মার খেয়েছেন খুলনার সব বোলারই। সবচেয়ে কম রান দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। তাও ৪ ওভারে ৩২। বাকি সব বোলারই এভিন লুইসের ১০৯ রানের ইনিংসের পথে খেয়েছেন বেধড়ক পিটুনি। বিপিএলে রান দেওয়ার রেকর্ডও গড়ে ফেলেন টাইটানস পেসার নূর আলম সাদ্দাম। দেন ৪ ওভারে ৫৯ রান। সতীর্থদের এমন বিপদের দিনে দর্শক হয়ে থাকতে হয়েছে তাইজুলকে!
সবাই মার খেয়ে যাওয়ার পরও ৫ বোলারকে দিয়েই ২০ ওভার করিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। মিডিয়াম পেসার আরিফুল হককেও ডাকেননি। হারের বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া খুলনার সেরা চারে ওঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় অনেক আগেই। এ ম্যাচে তাদের হারানোর কিছুই ছিল না।
নির্ভার থেকে শেষটায় এসে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ হেলায় হারালেন তারা। বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও দেখা যায়নি প্রচেষ্টার ছাপ। যার ফল নিজেদের ১১ নম্বর ম্যাচে ৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে হার। মাত্র দুটি জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের শেষ ম্যাচ আগামী ২ ফেব্রুয়ারি মিরপুরে। তাদের প্রতিপক্ষ সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নমাইটস।








