‘জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পথে সর্বপ্রথম লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। লক্ষ্য পূরণের জন্য দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, যোগাযোগ দক্ষতা এবং মানুষকে পরিচালনার দক্ষতা। এরপর নেতৃত্ব গ্রহণের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করার জন্য শক্তি লাগবে। আত্মবিশ্বাস এবং সৎ হতে হবে। যখন যে কাজ করবে তা উপভোগ করতে হবে।’
এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তরুণদের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর অনুপ্রেরণা দিলেন বেক্সিমকো গ্রুপ লিমিটেডের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ নাভিদ হোসাইন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেশের সেরা কর্পোরেট লিডারদের কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দিতে স্কিল হান্ট নামক সংগঠন আয়োজন করে রোড টু দ্য সিইও-শীর্ষক বিশেষ কর্মশালা।
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত কর্মশালাটি উদ্বোধন করেন ইলেকট্রিক এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম মোস্তাফা আল মামুন। কর্মশালাটি সকাল ৯টায় শুরু হয়ে দুপুর ১২টায় শেষ হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ আর দেশের বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের মধ্যকার সেতুবন্ধন তৈরি তথা সম্পর্ক স্থাপন এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ সিইও তথা প্রধান নির্বাহী হওয়ার পথে কোন কোন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে সে বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা শোনাতেই এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলি রুবাইয়াত উল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দেশের সেরা চারটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের চারজন সিইও দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন। জীবনের এই পর্যায়ে পৌঁছতে চ্যালেঞ্জ, সীমাবদ্ধতা, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে নানা কলাকৌশলগুলো জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকো শেয়ার করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে বক্তব্য রাখেন বেক্সিমকো গ্রুপ লিমিটেডের পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ নাভেদ হোসাইন, জোন কিলস হোল্ডিংস, রহিমআফরোজ গ্রুপ ও অ্যাপোলো হসপিটাল এর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রঞ্জন ডি সিলভা, নেসলের কান্ট্রি বিজনেস ম্যানেজার মাসুম খান এবং কাউন্ট সিমেন্ট এর প্রধান নির্বাহী মাসুদ খান।
নাভেদ হোসাইন তার বক্তৃতায় নিজের জীবনের গল্প বলার পাশাপাশি গুরুত্ব দেন তরুণদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ, আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম, সময়ের গুরুত্ব এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনকে।
নাভেদ হোসাইনের জন্ম পাকিস্তানে। পরবর্তীতে তিনি বেক্সিমকোর আমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসেন এবং এখানেই স্থায়ী হয়েছেন। এই ৮২ বছর বয়সেও তিনি নিজেকে ১৮ বছরের তরুণ বলে মনে করেন।
তিনি বলেন, জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পথে সর্বপ্রথম কাজকে গুরুত্ব দিতে হবে। ছোট বড় কাজ পার্থক্য করা যাবে না। যে কোনো পর্যায়ে সুন্দরভাবে কাজ করার মনোভাব থাকতে হবে। অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম হতে হবে। মানুষকে ম্যানেজ করার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এর জন্য মানুষের গভীরে প্রবেশ করতে হয়। সুসম্পর্ক স্থাপন করতে হয়। কাউকে শক্তি প্রয়োগ করে ম্যানেজ করা যায় না। মূলত উদার মনোভাব নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে এবং সত্যবাদী হতে হবে।
ক্রাউন্ট সিমেন্টের প্রধান নির্বাহীও জানালেন সময়কে সম্মান করার কথা। স্বপ্ন দেখা এবং সে স্বপ্নের পথে আত্মবিশ্বাস রেখে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন তিনি।
রঞ্জন ডি সিলভাও নিজের জীবনের বহুমুখী কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পাশাপাশি তরুণদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে বললেন এবং সর্বপ্রথম জ্ঞানার্জনকে তিনি গুরুত্ব দেন।
তার মতে, সবকিছুর আগে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এরপর সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, মানুষ ইচ্ছা করলে যেকোনো কিছুই করা সম্ভব।

বাংলাদেশে বর্তমানে তারুণ্যের উর্বর সময় চলছে। আর এই তারুণ্যকে দেশের সম্পদে পরিণত করতে অনেক সংগঠন, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বহুমুখী উদ্যোগ নিতে দেখা যায়। স্কিল হান্ট তেমনই তরুণদের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যা দেশের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করছে বলে জানালেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আলতাফ হোসাইন রাজু।
প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ক্লাব যা আগ্রহী ছাত্রদের জন্য দেশের সেরা সিইওদের সাথে দেখা করার ও তাদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ করে দিচ্ছে সংগঠনটি। এটি তাদের প্রথমবারের মতো আয়োজন। প্রতি দেড় মাস অন্তর এই ধরনের আয়োজন করা হয় বলে জানালেন সংগঠনের সভাপতি।
কর্মশালার সভাপতি অধ্যাপক শিবলি রুবাইয়া উল ইসলাম ছাত্রছাত্রীদের এই আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পাশাপাশি বহুমুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, যা তাদের ক্যারিয়ারের অগ্রগতিতে সহায়ক। স্কিল হান্টের এই আয়োজনটি প্রশংসার দাবি রাখে। এই ধরনের উদ্যোগগুলো আমাদের তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। সেই দক্ষতা দিয়ে তারা একটি উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।
ছবি: সাকিব রাইন








