২০০৮ সালের মতো এবারও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার অন্যতম প্রধান ভরসা তরুণরা। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ইতোমধ্যে চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেছেন: ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবীনদের ভোট বেশি পাবে আওয়ামী লীগ। তাই তরুণ ভোটারদের প্রতিই আস্থা রাখতে হচ্ছে। তরুণদের মাঝে আমরা যে আগ্রহ দেখেছি, যে সহযোগিতা পেয়েছি, তারা যেভাবে আমাদের দিকে এগিয়ে এসেছে, সাড়া দিয়েছে, আমরা এতে খুবই আশাবাদী।’
এর আগে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় তরুণদের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার কতোটা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে? নির্বাচনী ওয়াদা পূরণের ক্ষেত্রে তরুণরা সরকারের কতোটা সন্তুষ্ট? এ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা কী গবেষণা করেছেন? যাদের ওপর ভরসা করে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায় তাদের কষ্ট বা মানসিকতা বুঝার ক্ষেত্রে ততোটা আগ্রহী হতে দেখা যায় না।
আমরা মনে করি, শুধু আওয়ামী লীগ নয়, বরং সব রাজনৈতিক দলকে নতুন করে তরুণদের আগ্রহ, তারুণ্যের পছন্দ, কর্মসংস্থান, তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের বিষয়ে ভাবতে হবে। তরুণদের স্বার্থ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যতো বেশি প্রতিযোগিতা হবে ততোই ভালো। তখন যেখানে তাদের স্বার্থ প্রাধান্য পাবে সেখানেই তরুণরা ভোট দেবে। এছাড়া তরুণদের বাদ দিয়ে যে কারও ক্ষমতায় আসার পথ অনেকটা মসৃণ, তা ক্ষমতাসীনদের কথায় বুঝা যায়।
কিন্তু যাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের এত চিন্তা-ভাবনা, সেই তারুণ্যের জন্য এবারের বাজেট কতোটা তরুণবান্ধব? অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন: ‘‘যুগের চাহিদার সাথে সংগতি রেখে তরুণদের নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করা, তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উদ্ভাবিত সামগ্রী ব্র্যান্ডিং ও বাণিজ্যিকীকরণ, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে আমরা ‘উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছি। উদ্ভাবনভিত্তিক ব্যক্তি উদ্যোগের বিকাশ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলা ও কর্মসংস্থানে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’’ এছাড়া বিভিন্ন খাতে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথাও বলেছেন অর্থমন্ত্রী।
সরকারের এসব উদ্যোগের পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তা এবং অনলাইন ভিত্তিক ভার্চুয়াল ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্র করের আওতার বাইরে রেখে বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হবে। এছাড়া অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়েও চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। তাহলে তরুণরা নির্দিষ্ট কোনো চাকরির পেছনে না ছুটে আরও বেশি উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী হবে। এক্ষেত্রে তারা চাকরির পেছনে ছুটে না বেড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে। বাজেটকে আরও তরুণবান্ধব করতে অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা আরও উদ্যোগী হবেন বলে আমরা আশা করি।







