কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে নাজিমুদ্দিন সামাদকে একটি পক্ষ সুপরিকল্পিতভাবে এ হত্যা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজিমুদ্দিন সামাদের হত্যার প্রতিবাদে শাহাবাগে আয়োজিত মশাল মিছিলপূর্ব সমাবেশে ইমরান এসব কথা বলেন।
ইমরান বলেন, নাজিমুদ্দিন সামাদের হত্যাকাণ্ডের পর পরিষ্কারভাবে মনে হচ্ছে, এসব হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এগুলো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে এমন কোনো শক্তি আছে, যে শক্তি থাকার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চোখে কালো চশমা পরে আছে। তারা কিছুই দেখছে না। একজন প্রতিবাদী তরুণকে হত্যা করার পর বলা হয়- যারা হত্যা করেছে তারা নাকি ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে চলে গেছে। এই কথাটি বলে একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দিকে তাক করা হয়। এই তাক করার ফলে বিচার পাওয়ার যে সম্ভাবনা, তা নষ্ট হয়ে যায়।
এমনকি অদ্ভুত জিনের আছর পড়লে বাংলাদেশে, ‘যে একটার পর একটা ঘটনা ঘটবে। কিন্তু কোনো ঘটনার ক্লু আপনারা খুঁজে পাচ্ছেন না। আপনারা একটা খেলা পেয়েছেন? একটার পর একটা ঘটনা ঘটবে আর আপনারা নানা ধরনের গান হাজির করবেন, সংবাদ সম্মেলন করবেন। একদিন বলবেন আনসারুল্লাহ বাংলা, আরেক দিন বলবেন জেএমবি, আরেক দিন বলবেন এদের কেউ না, অন্য কোনো গোষ্ঠী। এসব বলে জনগণের দৃষ্টি আরেক দিকে সরিয়ে দেবেন। সেটা হবে না।’
সরকারের উদ্দেশে ইমরান বলেন, ‘যদি আপনারা মনে করেন, কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আছে, তাহলে তাদের ধরে আপনাদের প্রমাণ করতে হবে। আপনারা বারবার একই কথা বলে যাবেন আর আমাদের ভাইবোনেরা হত্যার শিকার হবে, আমরা তা মেনে নেব না।’
সমাবেশের পরে চলমান হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়ার প্রতিবাদে আগামীকাল শুক্রবার বিকেল চারটায় শাহবাগে সংহতি সমাবেশ করার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।








