১.
যখন সরকার নিয়ন্ত্রিত একটা টেলিভিশন আর একটা রেডিও সেন্টার ছিল, তখন মিডিয়া হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য সশস্ত্র বাহিনী ‘আইএসপিআর’ গঠন করে। হাতে গোনা কয়েকটা পত্রিকা সামাল দিতে একজন লেফট্যানেন্ট কর্নেলের অধীনে একটি পরিদফতর যথেষ্ট ছিল। তবে মিডিয়া হ্যান্ডেলিংয়ের বাস্তবতা আজ আর নেই, এখন মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের যুগ। দেশে কম-বেশি ৪০টি টিভি আর কমি্উনিটিসহ ‘শ’ খানেক রেডিওর এই অবাধ জার্নালিজমের যুগে তথ্যের অবাধ প্রবাহ মনিটর করতে বর্তমান আইএসপিআরের জনবল কাঠামো যথেষ্ট নয়। এই বাস্তবতায় একবার ওয়ান ইলেভেনের স্বর্ণযুগে দৈনিক আমাদের সময়ে লেখা এক কলামে মেজর জেনারেলের অধীনে পাবলিক রিলেশনস অধিদফতর খোলার পরামর্শ দিয়েছিলেন নাঈমুল ইসলাম খান।
২.
যেহেতু সেনানিবাস এলাকায় তনুর লাশ পাওয়া গেছে, এর তদন্ত সেনাবাহিনীই করবে। হয়তো করছেও। জনগণ এও বিশ্বাস করে যে, বিচার সেনা আইনে হলেও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে তথ্যের মিসম্যানেজমেন্টে তনু ইস্যুটি সেনাবিরোধী ইস্যুতে কনভার্ট হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সামরিক বাহিনীকে বুঝতে হবে, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম আর ময়নামতি এক নয়। এই ভৌগলিক বাস্তবতায় যত দ্রুত সম্ভব, তনু ইস্যুতে সেনাবাহিনীর মুখ খোলা উচিত। জনসংযোগ, মিডিয়া সংযোগের এই দৌড়ে বরং র্যাব অনেক এগিয়ে! র্যাব যেভাবে মিডিয়া ম্যানেজ করতে পারে, অনেক বড় অর্গানাইজেশন হয়েও সেনাবাহিনীও সেভাবে পারছে না।
৩.
গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে সেনাবাহিনী যখন পেশাদারিত্বের সাথে করপোরেটাইজেশনে ডুবে যাচ্ছে, যখন সেনাবাহিনীই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশি গণতন্ত্রের প্রাণভোমরা, তখন সেনাবাহিনীর এই মিডিয়াবিমুখ আচরণ কিন্তু মোটা দাগে রাষ্ট্রকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কোথায় আমরা শুনবো দুর্গম আফ্রিকার জঙ্গলে মানবিকতার চাষ করছে আমাদের সৈনিক ছেলেরা, তা না শুনে আমরা গুজব শুনছি, কয়েকটা সৈনিক মিলে তাদের এক সহকর্মীর মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







