ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক খালেদ মাহমুদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তার সহকর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সেইসাথে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌতুকের মামলা প্রত্যাহার করে তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উম্মোচনের দাবি জানান তারা।
সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সব সময় অন্যায়ের-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় উল্লেখ করে শিক্ষকরা বলেন, গত ২২ নভেম্বর খালেদ মাহমুদকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে ১২ নভেম্বর তার স্ত্রীর সাথে তার ডিভোর্স হয়ে যায়। ডিভোর্সের কিছুদিন পরে কেন তার নামে যৌতুক এবং ধর্ষণের অভিযোগ আনা হলো। যদি তিনি এ ধরনের অপরাধ করে থাকে, তা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রমাণ করা খুবই সহজ বিষয়। এটি একটি উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ঘটনা। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এঘটনার সত্য জানতে চাই।
ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থী বলেন, স্যারের বিরুদ্ধে এটা যে একটি ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা, তা খুবই স্পষ্ট। কারণ যৌতুক চাওয়ার অভিযোগ এখন ডিভোর্স হওয়ার পর কেন তোলা হচ্ছে? আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘খালেদ মাহমুদ শিক্ষক হিসেবে খুবই মেধাবী এবং বিনয়ী। সে তার শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয়। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাতে মনে হয় এখানে কোনো ষড়যন্ত্র আছে।’
‘‘আমরা চাই না একজন শিক্ষক শুধু নয়, এদেশের কোনো নাগরিক প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তি কতৃক অনাচার-অবিচারের শিকার হোক। খালেদ যতি কোনো অপরাধ করে থাকে, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।’’
মানববন্ধনে দুইশত শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিয়াউর রহমান, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক সুতপা ভট্টাচার্য প্রমুখ।
গত ২২ নভেম্ববর রাজধানীর ভাটারা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের মামলায় দায়ের করেন এক নারীর স্বামী। ওই রাতেই ভাটারা থানার পুলিশ বসুন্ধরা এলাকা থেকে খালেদ মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে।








