ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে মেট্রোরেল রুটের পক্ষে ও বিপক্ষে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।মেট্রোরেলের রুট বদলানোর দাবিতে সরব শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্য পাদদেশে সমাবেশের ঘোষণা দিলেও তাদের আগেই ‘ঢাবি দিয়েই মেট্রোরেল চাই’ এমন দাবি নিয়ে সভাস্থলের দখল নেয় আরেকদল শিক্ষার্থী। এসময় সমাবেশ ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। আইনশৃংখলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবে সংঘর্ষ এড়িয়ে মেট্রোরুটের পরিবর্তন দাবিকারীরা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে টিএসসি সড়ক দ্বীপ ( ডাস) সংলগ্ন রাস্তায় অবস্থান নেয়। কয়েকগজ দূরত্বে দুপক্ষ অবস্থান নিলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
মেট্রোরেলের বিপক্ষে একাংশের শিক্ষার্থীরা ‘মেট্রোরেলের রুট বদলাও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঁচাও’। এই স্লোগানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানার থেকে সমাবেশ ও আন্দোলন করছে।
তাদের দাবি, মেট্রোরেলের রুটটি যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে যায়; তাহলে হুমকিতে পড়বে গোটা ক্যাম্পাসের শিক্ষা পরিবেশ। ক্ষতিগ্রস্ত হবে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হবে চারুকলা, টিএসসি ও দোয়েল চত্বর এলাকা। মেট্রোরেলের কারণে কাঁপবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম স্থাপনা কার্জন হলের একেকটি ইট।
মেট্রোরুটের পরিবর্তন দাবি করা শিক্ষার্থীরা বলেন,’অপরিণামদর্শী উন্নয়নে জাতির নেতৃত্ব দেয়া বিশ্ববিদ্যালয়টি অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে। এমনিতেই ভীড় লেগে থাকা রাস্তায় মাথার ওপর দিয়ে মেট্রোরেল অসহনীয় পরিবেশ তৈরি করবে। একটি গৌরবদীপ্ত ক্যাম্পাসের ওপর দিয়ে এরকম স্থাপনা হলে ঢাবি’র সঙ্গে ফার্মগেট,কমলাপুর,গুলিস্তানের চিত্র মিলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তারা। তবে সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে মেট্রোরেল চান জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা অবশ্যই সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আছি, কিন্তু বিকল্প রুট থাকতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুক চিরে কেনো। মেট্রোরেল হবেই তবে রুট বদলাতে হবে’।
একপাশে যখন এসব যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছিলো তখন পাশেই তুলে ধরা হচ্ছিলো মেট্রোরেলের পক্ষে নানা যুক্তি।
অবস্থান কর্মসূচি দিয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীরা বলেন,’যারা মেট্রোরেলের রুট পরিবর্তনের সমাবেশ করছে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো চায় না’।
‘মেট্রো চাই’ দাবিতে বিভিন্ন ব্যানার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের একজন কবি সুফিয়া কামাল হলের সম্পা। তিনি বলেন,’ আমরা আধুনিক হতে চাই। তাছাড়া মেট্রোরেল হলে যানজট কমবে’। তারপাশে দাঁড়ানো একই হলের কয়েকজন বক্তব্যে মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়।
মেট্রো রেলের রুট ঢাবিতেই চাই এমন দাবিতে সরবদের বেশির ভাগই প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এদেরই একজন জিয়া হলের আক্তার। আইন বিভাগের এই শিক্ষার্থী জানান, মেট্রো রেলে যোগাযোগের সুবিধাই হবে। সময় বাঁচবে। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য আরও বাড়বে’।
‘যুক্তি দিয়ে মুক্তি মেলেনা’ লেখা ব্যানার নিয়ে মেট্রো রেলের রুটের পক্ষে দাঁড়ান ঢাবি’র বাসে যাতায়াত করা শিক্ষার্থীরা। তবে মেট্রো রেলের রুট পরিবর্তন দাবিকারীদের সমাবেশে যোগ দিয়ে এই বাসগুলোতে যাতায়াত করা শিক্ষার্থীদের কয়েজন অভিযোগ করেন যারা মেট্রো রুটের স্বপক্ষে দাড়িয়েছে তারা নিজ ইচ্ছায় দাড়ায়নি। তবে এসব দাবি সত্ত্বেও মেট্রোরেলের পক্ষে সকাল থেকেই রাজু ভাস্কর্যের সামনে আন্দোলন ও সমাবেশ করে শিক্ষার্থীদের একাংশ। তাদের দাবি, মেট্রোরেলটি নির্মাণ হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল পরিবেশ আরো উন্নত হবে। সুবিধা হবে শিক্ষার্থীদের।
পাল্টাপাল্টি চললেও মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ বাধাগ্রস্ত হবে না তা অগেই জানিয়ে দিয়েছেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তাই সব বিতর্ক নিয়েই ঢাকার যানজট নিরসনে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে যাচ্ছে মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ।






