ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের উদ্যোগে সমাজ ‘পরিবর্তনে শিক্ষার্থী-২০১৮’ শীর্ষক প্রচারাভিযানের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে দেশব্যাপী প্রচারাভিযানের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন তারা।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই এসোসিয়েশন গত বছরের ন্যায় এবারও সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রচারাভিযানের উদ্যোগ নেয়।
এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২’শ জন শিক্ষার্থী তাদের নিজ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত ২০ থেকে ২৬ অক্টোবর দেশব্যাপী প্রচারাভিযানে অংশগ্রহণ করে। দেশের আটটি বিভাগের ৬১টি জেলায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। বিভিন্ন বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে প্রচারাভিযান চালানোর সময় তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও শিক্ষণীয় বিষয় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের মাধ্যমে উঠে আসে।
অ্যালামনাইয়ের সভাপতি এ কে আজদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব রঞ্জন কর্মকারের পরিচালনায় অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, অ্যালামনাইয়ের সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট্য সমাজসেবক মঞ্জুর এলাহী, অ্যালামনাইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, এফবিসিসিআই এর সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক সামাদ বলেন, তারুণ্য শক্তির জয়গান নিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, তিনি তেমনি বয়স্কদের নিয়েও লিখেছেন। তারুণ্যের সেই শক্তিকে জাগ্রত করতে হবে। পৃথিবীকে তারুণ্য দিয়ে সেবা করতে হবে। যারা মেধা ও মননে পৃথিবীর সেবা করে গেছেন তারাই মহান, তারাই গুণীজন। এসকল মানুষের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে তোমাদেরও পৃথিবীর সেবা করতে হবে।
এ কে আজাদ বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রচারাভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো নেতৃত্বদানের গুণাবলিকে উন্নত করা। এজন্য শিক্ষার্থীদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচারাভিযানে পাঠানো হয়েছে। আশা করি তোমরা ভবিষ্যতে অ্যালামনাইয়ের দায়িত্ব নিবে এবং অস্বচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাহায্য করবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হয়। ইচ্ছে করেই তাদের কিছু কম অর্থ দেওয়া হয়, যাতে তারা নিজে উপার্জন করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর তাড়না অনুভব করে।
মঞ্জুর এলাহী বলেন, আজ বাংলাদেশ সবদিক দিয়ে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু পাকিস্তান আমলে আমরা উৎপাদনে এগিয়ে থাকলেও সেগুলোর উপর অধিকার ছিলো না। বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা থাকার কারণে আমরা আমাদের অধিকার ফিরে পেয়েছি। আশা করি তোমরাও বঙ্গবন্ধুর মতো এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে নেতৃত্ব দিবে। 
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রচারাভিযানের উপর পাঁচ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়। এর আগে সকালে শিক্ষার্থীরা ১১টি জোনে ভাগ হয়ে অ্যালামনাইয়ের কার্যনির্বাহী সদস্যদের সামনে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সেখান থেকে মূল অনুষ্ঠানে অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য ১২ জনকে বাছাই করা হয়। এই ১২ জন থেকে আটজনকে বাছাই করে পুরস্কৃত করা হবে।







