ঢাকার আর্চ বিশপ প্যাট্রিক ডি রোজারিও’র কার্ডিনাল হিসেবে নিয়োগ পাওয়াকে দেশ এবং বাঙালির জন্য সম্মান ও গর্বের বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
হাস্যোজ্জ্বল মুখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড়দিনের এই উৎসবময় মুহুর্তে পোপের কাছ থেকে কার্ডিনাল নিয়োগ পাওয়া প্রথম এই বাঙালির অর্জন দেশের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ অন্যান্য ধর্মের কয়েকজনকে হত্যার পেছনে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্র ছিলো বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। আজ রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বড়দিন মহোৎসব এবং কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও’র সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন,‘ এই প্রথম একজন বাঙালিকে কার্ডিনাল হিসেবে নিযুক্ত করলেন খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিস। বাংলাদেশের একজনকে এই সম্মানজনক পদে নিযুক্ত করায় আমরাও সম্মানিত হয়েছি’।

শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন,‘এই দেশে সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে এটা নিশ্চিত করতে চাই। স্বাধীনতা সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষ রক্ত দিয়েছে। এই দেশে যারা ধর্মের ভান করে তারাই আসলে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে ধর্মে ধর্মে বিদ্বেষ ছড়ায়’।
তিনি বলেন,‘১৯৭৫ সালের পর থেকেই সাম্প্রদায়িকতার উত্থান দেখছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিরোধীতা করেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন,‘ধর্মকে ব্যবহার করলে ধর্মকেই খাটো করা হয়’।
বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ফুটিয়ে তুলে তিনি বলেন,‘ ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’।
সাধারণত পোপের খুবই ঘনিষ্ঠ মহলের সদস্য হন কার্ডিনালরা । পৃথিবীজুড়ে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের চার্চগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে কার্ডিনালরা পোপকে সহায়তা করেন।
নতুন ঘোষিত ১৭ জন কার্ডিনালসহ বর্তমানে ভ্যাটিকানে কার্ডিনালের সংখ্যা ২০০’র মতো। ২১ নভেম্বর ভ্যাটিকানে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন কার্ডিনালদের দায়িত্ব দেয়া হয়।
ভ্যাটিকানের নিয়ম অনুযায়ী, কোন একটি দেশ থেকে কার্ডিনাল নির্বাচিত হতে হলে সে দেশে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা এবং চার্চের সংখ্যা বিবেচনা করা হয়।

৭৩-বছর বয়সী প্যাট্রিক ডি’রোজারিও জন্ম বাংলাদেশের বরিশাল জেলার পাদ্রি শিবপুর এলাকায়। ১৯৭২ সালে তিনি ফাদার বা যাজক হয়েছিলেন। যাজক হিসেবে ১৮ বছর দায়িত্ব পালনের পর ডি’রোজারিও ১৯৯০ সালে বিশপ নির্বাচিত হন। বিশপ নির্বাচিত হবার পর তিনি রাজশাহীতে ধর্ম প্রদেশের দায়িত্ব নেন।
বাংলাদেশে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের এ ধরনের সাতটি ধর্ম প্রদেশ রয়েছে। প্রতিটি ধর্মপ্রদেশের আওতায় বেশ কিছু গির্জা থাকে। রাজশাহীর পর ডি’রোজারিও ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম ধর্মপ্রদেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০১০ সালে প্যাট্রিক ডি’রোজারিও ঢাকার আর্চবিশপ হিসেবে দায়িত্ব পান। আর্চবিশপ হচ্ছেন বাংলাদেশে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু।








