কক্সবাজার জেলায় ডেঙ্গু রোগীদের সেবা দিতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে। কক্সবাজারের চিকিৎসকদের ডেঙ্গুর বিষয়ে ধারণা দিতে দেয়া হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণ।
ডেঙ্গু কর্নারে চিকিৎসা করাতে এসে শনাক্ত হয়েছে ৪৩ জন রোগী। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছে ১৯ জন। এখান থেকে চট্টগ্রাম হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা গেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী।
জানা গেছে, দেশের অন্যান্য জেলার মতো কক্সবাজারেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে। তবে তার সাথে সাথে এ ব্যাপারে সচেতন করতে নানা কার্যক্রম চলছে। সরকারি-বেসরকারি প্রচার-প্রচারণা ছাড়াও চিকিৎসকরা এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছেন।
ডেঙ্গু রোগীদের জন্য খোলা ডেঙ্গু কর্নারে ডেঙ্গু রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই ঢাকা থেকে আসা। জ্বরের কারণে শরীর ব্যাথাসহ নানা কথা বলছেন আক্রান্তরা।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু আক্রান্ত আমির হোসেন বলেন, ঢাকায় চাচার বাসায় গিয়েছিলাম, ছিলাম এসি রুমে। বাড়িতে এসে দেখি জ্বর। এরপর হাসপাতালে ভর্তি হই।
কক্সবাজারের চিকিৎসকদের ডেঙ্গু রোগের ব্যাপারে আধুনিক ধারণা দেয়ার লক্ষ্যে মেডিসিন সোসাইটি বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ডাক্তারদের বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। এতে কক্সবাজারের দুই শতাধিক চিকিৎসক অংশ নেন।
এসময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন বলেন, আমরা চাই সারা দেশে যেন একই গাইড লাইনে চিকিৎসাটা হয়। তাই আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতিগুলো কক্সবাজারের চিকিৎসকদের দেখানো হয়।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মোঃ ফরহাদ হোসেন বলেন, কক্সবাজার একটি পর্যটন নগরী। এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটক ছাড়াও কক্সবাজারের অনেকেই লেখাপড়া ও কর্মক্ষেত্রের কারণে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বসবাস করেন। ডেঙ্গু রোগ হওয়ায় অনেকেই কক্সবাজারে চলে আসেন। তাদের সাথেই ডেঙ্গু জীবাণু চলে আসছে এখানে। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কক্সবাজারের বাসিন্দা উখিনো নুশাং রাখাইন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজার আসেন। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও উপ-পরিচালক ডাক্তার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, কক্সবাজারে এ পর্যন্ত ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে ১৯ জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে।
ডেঙ্গু অন্যান্য জ্বরের মতোই একটি জ্বর। ডেঙ্গু হলে আতঙ্কিত না হয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।








