দেশের প্রেক্ষাগৃহে চলছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত বহুল আলোচিত ছবি ‘ডুব’। ছবিটি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় দর্শকদের আলোচনা সমালোচনা দেখার মতো। এক পক্ষ ছবিটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও অন্য পক্ষ ছবিটি নিয়ে জানাচ্ছেন হতাশার কথা। নির্মাতার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাচ্ছেন কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জীবনী বলে! এরমধ্যে বুধবার দুপুরে চ্যানেল আই ভবনে এসেছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ফারুক আহমেদ। যিনি এককভাবে হুমায়ূন আহমেদের নির্মাণে সবচেয়ে বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন। ডুব নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়ায় সুর মেলালেন তিনিও-
ডুব নিয়ে যে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে এটাকে কীভাবে দেখেন? এমন প্রশ্নে ফারুক আহমেদ বলেন, অনেকে বলছেন সিনেমা নিয়ে কেউ যেনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া না করেন। এটাকে আমি সাপোর্ট করি না। এটা শুধু ডুবের ক্ষেত্রে নয়, আমি সব সিনেমার কথা বলছি। একটা সিনেমা নিয়ে সব রকমের মানুষ তার ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে পারেন। এটাতে আমি সমস্যা দেখছি না। একটা সিনেমার পক্ষে আলোচনা হয়, বিপক্ষে হয়। এটাতো হবেই। আামি একটা সিনেমা দেখে যদি আমার ভালো না লাগে সেটা আমি বলবো না? আবার যদি ভালো লাগে সেটাও আমি বলবো। অনেকে বলেন, সিনেমা নিয়ে নেগেটিভ বলা উচিত না, ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংস হয়ে যাবে বা সিনেমার আকালের সময়ে নেতিবাচক কথা বলা উচিত না, কিন্তু এটা আমি মনে করি না। ডুব সম্পর্কে বলছি না, সব সিনেমা সম্পর্কে বলছি। দর্শকের এই অধিকার থাকা উচিত।
‘ডুব’ সিনেমা নিয়ে অভিযোগ উঠছে ছবিটি হুমায়ূন আহমেদের জীবনী নির্ভর। যাঁর বেশির ভাগ নির্মাণে আপনি অভিনয় করেছেন। যদি সত্যিই ছবিটি এমন হয়ে থাকে তাহলে এ বিষয়ে আপনার কোনো বক্তব্য আছে কিনা? এরপর ফারুক আহমেদ বলেন, প্রথমত ডুব আমি দেখিনি, তবে দেখার ইচ্ছা আছে। আর এখনো যেহেতু দেখিনি সেজন্য ছবিটি নিয়ে কিছু বলতে পারছি না। তবে এটুকু বলতে পারি, ডুব যদি ইন্টেনশনালি কাউকে ছোট করতে নির্মাণ করা হয় তাহলে উচিত হয়নি। কারণ হুমায়ূন স্যারের ঘটনা কিন্তু নিকট অতীত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে আপনি অনেক কিছু করতে পারেন, কারণ এটা অনেক আগের ঘটনা। হুমায়ূন আহমেদের জীবনী নিয়ে সিনেমা করার সময় এখনো আসেনি বলেই মনে হয় আমার। আর ছবিটি যদি নেগেটিভ হয়ে থাকে তাহলে আমি বলবো নির্মাতার এটা উচিত হয়নি।
আপনার অভিনীত ‘ভয়ংকর সুন্দর’ নিয়েওতো প্রচুর সমালোচনা হয়েছে, এমন জিজ্ঞাসায় ফারুক আহমেদ বলেন, ভয়ংকর সুন্দর নিয়ে যতোটা সমালোচনা হয়েছে, ছবিটা কিন্তু আসলে এতোটা খারাপ না। অনিমেষ আইচের কাছে মানুষের প্রত্যাশা আরো বেশি ছিল হয়তো, সে কারণেও হতে পারে। কিন্তু ছবিটার সাবজেক্ট অনেক ভালো ছিল। আজকে যে সারা পৃথিবীতে ওয়াটার ক্রাইসিস, পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। এই ছবিতে কিন্তু অ্যাবস্ট্রাক্টভাবে এটাই বোঝানো হয়েছে। ভবিষ্যৎ চিন্তা করেই ছবিটি হয়তো নির্মাণ করা হয়েছে। গল্পটা অসম্ভব ভালো।
‘ভয়ংকর সুন্দর’এর পর আর কোনো ছবিতে দেখা যায়নি ফারুক আহমেদকে। সামনে আর কোনো ছবিতে অভিনয় করছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সামনে একটা সিনেমায় অভিনয়ের কথা। তবে এখনই জানাচ্ছি না।
ছবি: ওবায়দুল হক তুহিন







