ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষই প্রাথমিকভাবে ইন্টার্ন ডাক্তার, পারিবারিক চিকিৎসক বা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের মতো স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের শরণাপন্ন হন।
তবে এর বাইরে আরও অনেকেই আছেন, যাদেরকে একজন ডায়াবেটিস রোগী তার ‘হেলথ টিম’-এর সদস্য হিসেবে রাখতে পারেন। এদের মধ্যে রয়েছেন:
এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট: বিভিন্ন হরমোনসহ ডায়াবেটিসের বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার জন্য।
ডায়েটিশিয়ান: স্বল্প, তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস ধরে রাখার জন্য।
নার্স: ডায়াবেটিস বেশি গুরুতর হলে নিয়মিত সেবার প্রয়োজন হতে পারে।
ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ: ডায়াবেটিস বিষয়ে স্বীকৃত এমন কেউ যার কাছ থেকে আপনি রোগটি সম্পর্কে সঠিক তথ্য সহজে পেতে পারবেন।
দাঁতের ডাক্তার: ডায়াবেটিসের ধারাবাহিকতায় দাঁত ও মাড়িতে নানা ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। তাই এসবের সুষ্ঠু চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ভালো একজন দাঁতের ডাক্তারের অধীনে চেকআপ করানো এবং প্রয়োজন অনুসারে চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন।
চক্ষু বিশেষজ্ঞ: চোখের সমস্যার চিকিৎসা সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে যেমন, একজন ডায়াবেটিক ব্যক্তির জন্য তেমন নয়। তার ক্ষেত্রে চিকিৎসার ধরণ ও গুরুত্ব সবসময়ই ডায়াবেটিসের বিষয়টি মাথায় রেখে ঠিক করতে হয়। কেননা তখন ছোট ছোট সমস্যা অযত্নে অনেক জটিল আকার নিতে পারে। তাই বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে সবসময় প্রয়োজন অনুসারে একজন বিশেষজ্ঞ চোখের ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।
চর্ম বিশেষজ্ঞ: ডায়াবেটিসে ত্বক এবং দেহের অন্যান্য বাহ্যিক অংশ নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হয়। এগুলোর সামান্য অবহেলায় বড় ধরণের সংক্রমণ থেকে শুরু করে গ্যাংগ্রিন পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তাই একজন চর্ম বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত থাকা জরুরি। যেন যখন দরকার তখন সাহায্য পাওয়া যায়।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ: এরা ছাড়াও ভালো একজন কাউন্সেলর বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডায়াবেটিসের সময় আপনার মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করবেন। যদি রোগী ডায়াবেটিসের কারণে বিষণ্ন, হতাশ বা ক্ষুব্ধ অনুভব করেন, অথবা এ সংক্রান্ত কোনো সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন, তাহলে এরকম একজন বিশেষজ্ঞ সাহায্য করতে পারেন।
ডায়াবেটিসের সময় বিশেষায়িত সেবা ছাড়াও নিয়মিত ডাক্তারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও টিকা সম্পর্কে কথা বলতে হবে। কেননা অসুস্থ হয়ে যাওয়া থেকে নিজেকে বাঁচানো একজন ডায়াবেটিক রোগীর নিজের প্রতি কর্তব্য।
আপনি যদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, ওপরের যার যার কাছে স্বাস্থ্য বিষয়ে পরামর্শ করতে যাবেন, অনেক প্রশ্ন করুন। দেখা করতে যাওয়ার আগেই প্রাসঙ্গিক ও প্রয়োজনীয় প্রশ্নের একটি তালিকা তৈরি করে নিয়ে যান। যেন ডায়াবেটিস এবং এ সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে আপনার মনে কোনো ধরণের ভুল ধারণা না থাকে।








