একেতো পয়েন্ট টেবিলের দুই শীর্ষ দল, তার উপর নগর প্রতিদ্বন্দ্বী। ডাগআউটে আবার বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই কোচ, পেপ গার্দিওলা ও হোসে মরিনহো। রক্ষণাত্মক বনাম আক্রমণাত্মক ফুটবলের লড়াই। যাতে শেষ হাসি গার্দিওলার। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে যে তাদেরই মাঠে ২-০ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি।
চলতি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে যেন হারতে ভুলে গেছে ম্যানসিটি। ১৬ ম্যাচে ড্র কেবল একটি, বাকিগুলোতে প্রায়ই প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে গার্দিওলার শিষ্যরা। টানা ১৪ ম্যাচে জিতে করেছে প্রিমিয়ার লিগের রেকর্ড। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানটাও অন্যদের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেছে সিটিজেনরা। ১৬ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট তাদের। নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানইউ ১৬ ম্যাচে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে থাকল টেবিলের দুইয়ে।
রোববার শহর ভাগ হয়ে পড়েছিল ফুটবলের রোমাঞ্চে। তুষার পড়ায় হিমাঙ্কের নিচে থাকা ওল্ড ট্রাফোর্ডে তাতে উত্তাপের দেখা মিলেছে ম্যাচের শুরু থেকেই। রক্ষণাত্মক কৌশলে দলকে খেলিয়ে দুর্নাম কুড়ানো মরিনহো এদিন শিষ্যদের দিয়েছেন আক্রমণের মন্ত্র। তাতে বিশ্বের সবচেয়ে দামী রক্ষণ নিয়ে ভালই পরীক্ষা দিতে হয়েছে ম্যানসিটিকে। পরে ঘর সামলে প্রতিপক্ষের দুর্গও কাঁপিয়েছে দলটি।
দুদলের ছোটখাটো আক্রমণের দেখা মিললেও তা পূর্ণতা পেতে সময় লেগেছে ৪৩ মিনিট পর্যন্ত। প্রথম হাসি ম্যানসিটির। ৪২ মিনিটে লেরয় সানের দারুণ একটি শট অসাধারণ নৈপুণ্যে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়েছিলেন ম্যানইউ গোলরক্ষক ডেভিড ডি গিয়া।

কিন্তু রক্ষা হয়নি। সানের কর্নার কিকে মাথা ছুঁয়ে বিপদমুক্ত করতে গিয়ে উল্টো ডেভিড সিলভার দিকে ঠেলে দেন রোমেলু লুকাকু। সুযোগ পেয়ে দুর্দান্ত ভলিতে অতিথিদের এগিয়ে দেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
গোল খেয়ে প্রথমার্ধেই ফেরত দিয়েছে ম্যানইউও। সিটিজেন ডিফেন্ডার ফ্যাবিয়ান ডালফের ভুলে প্রায় মাঝমাঠ থেকে পাওয়া পাসে ফাঁকায় বল পেয়ে যান মার্কাস রাশফোর্ড। তাতে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক এডারসন মোরায়েসকে বোকা বানিয়ে দলকে সমতায় ফেরাতে ১৮ বছর বয়সী রেড ডেভিল ফরোয়ার্ডের বেগ পেতে হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যানসিটির ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নিকোলাস ওটামেন্ডি। ৫৪ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনের ফ্রি-কিক বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ সেই লুকাকুই। তাতে প্রথম গোলের অনেকটা পুনরাবৃত্তি করেই দারুণ এক ভলিতে সিটিজেনদের এগিয়ে নেন আর্জেন্টাইন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার।

ম্যাচের ৭৬ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন রাশফোর্ড। ডি-বক্সের ভেতর থেকে নেয়া তার জোরাল শট ফিরিয়ে দেন সিটি গোলরক্ষক এডারসন।
পরে ৮৫ মিনিটে ম্যাচের সেরা সুযোগ হারিয়ে সিটিকে জয় উপহার দিয়েছে ইউনাইটেড। প্রতিপক্ষকে দুই গোল উপহার দেয়া লুকাকু পাপের প্রায়শ্চিত্ত প্রায় করেই ফেলেছিলেন। কিন্তু গোলমুখের একদম কাছ থেকে নেয়া বেলজিয়ান তারকার শট ফিরিয়ে দেন এডারসন। ফিরতি বলে হুয়ান মাতার শটও অতিমানবীয় ভাবে ফিরিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন সিটি গোলরক্ষক।








