১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আর সাত থেকে দশদিন বা তার আগেই যে কোনো দিন ডাকসুর তফসিল ঘোষণা হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানা যায়নি।
মঙ্গলবার ডাকসু নির্বাচন পরিচালনার প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে এ কথা বলেন।
এর আগে ডাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে গঠনতন্ত্র সংশোধন, শিক্ষার্থীদের খসড়া ডাটাবেইস, চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ, আচরণবিধি প্রণয়ন কমিটি গঠন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়াও দফায় দফায় সকল ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন, হল প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষক, টিএসসিভিত্তিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মত বিনিময় সভা করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) সিন্ডিকেট সভায় গণতন্ত্রে কিছু সংশোধনী আনা হয়।
তফসিল ঘোষণার ব্যাপারে অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ডাকসু নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি। ডাকসুর সভাপতি হিসেবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার এখতিয়ার রাখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। আজ থেকে সাত-দশ দিনের মধ্যে বা তার আগেই যেকোনদিন উপাচার্য ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারেন।
সংশোধিত গঠনতন্ত্রগুলো হলো
১.ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে চান্স পাওয়া স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল, একাধিক মাস্টার্স, সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স ল কোর্স করা শিক্ষার্থীরা ভোটার ও প্রার্থী হতে পারবে৷ তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই ঢাবিতে অনার্স থাকতে হবে।
২.সংশ্লিষ্ট হলগুলোতে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে৷
৩.ভোটার বা প্রার্থী হওয়ার বয়স সর্বোচ্চ ৩০ বছর৷
৪.সকল ভোটারই প্রার্থী হতে পারবে৷
৫.ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে চান্স না পাওয়া কেউ ভোটার বা প্রার্থী হতে পারবে না৷
৬.৩০ বছরের উপরে কেউ ভোটার বা প্রার্থী হতে পারবেন না৷
৭.অধিভুক্ত কলেজের কেউ ভোটার বা প্রার্থী হতে হতে পারবে না৷
৮.ডাকসু সভাপতির ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে সিন্ডিকেট সদস্যরা৷ সভার কার্যকারিতার পর বিস্তারিত জানানো হবে৷
সংশোধিত আচরণবিধিগুলো হলো
১. লিফলেট বা হ্যান্ডবিলে শুধুমাত্র সাদা-কালো ছবি ব্যাবহার করা যাবে৷
২. হলসমূহে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, প্রয়োজন হলে হল প্রাধ্যক্ষ আরো সংযোজন করবেন৷
৩. বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক নির্বাচনের সময় নিরবচ্ছিন্ন রাখা হবে৷
৪. প্রচারণার সময় সকাল ১০ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত রাখা হয়েছে৷
৫. সভা সমাবেশ ও অডিটোরিয়ামে মাইকের সাহায্যে প্রচারণা চলাতে পারবে৷
৬. কোন প্রকার স্থাপনা, দেয়াল, যানবাহন ইত্যাদিতে লিখন বা হ্যান্ডবিল লাগাতে পারবেনা৷
৭. সভা সমাবেশের সময় ২৪ ঘন্টা পূর্ব পর্যন্ত রাখা হয়েছে৷
৮. ছাত্রসংগঠনগুলোর কোন প্রার্থী, নেতাকর্মীদের হয়রানি করা যাবে না৷
৯. ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো আছে, প্রয়োজনে আরো বসানো হবে।
১০. শুধুমাত্র রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তিরাই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে৷







