ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে স্মারকলিপি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে ‘ডাকসুর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে ভিসিকে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মাসুদ আল মাহদীর নেতৃত্বে ২১ জন শিক্ষার্থী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে ডাকসুর গৌরবোজ্জ্বল অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অবিলম্বে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মাসুদ আল মাহদী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আমাদের কথা ভিসি স্যার শুনেছেন। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি ডাকসু নির্বাচন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
গত ২৭ বছর ধরে নির্বাচন না হওয়া ডাকসুর সবশেষ নির্বাচন হয় ১৯৯০ সালের ৬ জুন।
নির্বাচনের এক বছর পর ১৯৯১ সালের ১২ জুন তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তখন ছাত্রনেতারা ছাত্রত্ব ঠিক রেখে প্রার্থী হওয়ার জন্য বিশেষ ভর্তির দাবি করেন। এ নিয়ে সৃষ্ট সহিংসতায় নির্বাচন ভেস্তে যায়।
১৯৯৪ সালের এপ্রিলে সে সময়ের ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ডাকসুর তফসিল ঘোষণা করেন। কিন্তু নির্বাচনের পরিবেশ না থাকার দোহাইয়ে ছাত্রলীগের বাধার মুখে নির্বাচন স্থগিত হয়। ১৯৯৫ সালেও ডাকসুর তফসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেবারও একইভাবে নির্বাচন আর অনুষ্ঠিত হয়নি।
১৯৯৬ সালে অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী ভিসির দায়িত্ব নেয়ার পর একাধিকবার ডাকসু নির্বাচনের সময়সীমার কথা জানান। কিন্তু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় ব্যর্থ হন। ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু হলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ছাত্রদল নেতা আরিফ হোসেন তাজ খুন হন।
ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ১৯৯৮ সালের ২৩ মে রিপোর্ট দেয়। রিপোর্টে তখনকার মেয়াদোত্তীর্ণ ডাকসু ভেঙে দেয়া এবং পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুপারিশ করা হয়। সে অনুযায়ী ২৭ মে সিন্ডিকেট সভায় ডাকসু ভেঙে দেয়া হয়।
এরপরও অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী দু’বার নির্বাচনের উদ্যোগ নেন। কিন্তু তাও আলোর মুখ দেখেনি। তৎকালীন উপাচার্যের দাবি, সেই সময়কার বিরোধী ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের অসহযোগিতার কারণেই ডাকসু নির্বাচন দেয়া সম্ভব হয়নি।
সে সময় ডাকসুর জন্য গঠিত নতুন (সংশোধিত) গঠনতন্ত্রে ডাকসু ভাঙার ৪ মাসের মধ্যে পুনরায় নির্বাচনের কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত ডাকসুর তফসিল ঘোষণা হয়নি। ফলে নেতৃত্ব তৈরির ‘কারখানা’ হিসেবে পরিচিত ডাকসু আর কার্যকর হয়ে উঠেনি।
২০০৫ সালের মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের তখনকার ভিসি অধ্যাপক এসএমএ ফায়েজ ওই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের ঘোষণা দেন। ছাত্রদল ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে একাধিকবার মিছিল, সমাবেশ ও ভিসির কাছে স্মারকলিপিও দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত আর সে দাবি আলোর মুখ দেখেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পরও ডাকসু নির্বাচনের জোর দাবি ওঠে। দাবি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। শিক্ষার্থীরা পৃথক মঞ্চ করে আন্দোলন গড়ে তোলেন। এরপর বিভিন্ন সময় দফায় দফায় ডাকসু নির্বাচনের দাবি ওঠে।
সবশেষ গত ২৯ জুলাই ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়া উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তারপর থেকেই ডাকসুর দাবিতে টানা আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা।








