মধুর প্রতিশোধ হয়ত একেই বলে! সিলেটে সিরিজের প্রথম টি-টুয়েন্টিতে ব্যাটে-বলে দাপট দেখানো উইন্ডিজ মিরপুরে ফিরে দেখল অন্য বাংলাদেশকে। দেশের মাটিতে নিজেদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ গড়ার ম্যাচে সাকিব আল হাসানের দল পেল ৩৬ রানের জয়।
তাতে সমতায় (১-১) এল সিরিজ। শনিবার শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে অলিখিত ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুদল।
বাংলাদেশের দেয়া ২১২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা উইন্ডিজ ১৯.২ ওভারে ১৭৫ রানে গুটিয়ে গেছে। ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে সাকিব নেন ৫ উইকেট। এ বাঁহাতি স্পিনারের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং এটি।
সাকিব এর আগে তিনবার চার উইকেট করে পেলেও পাঁচ উইকেটের দেখা পেলেন প্রথমবার। ২০১৬ সালের মার্চে ধর্মশালায় টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে ওমানের বিপক্ষে ৩ ওভার বলে করে ১৫ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন। সেটিই ছিল বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ক্যারিয়ারসেরা। বৃহস্পতিবার মিরপুরে সেটি ছাপিয়ে যান সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমে।
সিরিজের শেষ ম্যাচেও জয় এলে বাংলাদেশ লিখবে নতুন ইতিহাস। কোনো পূর্ণাঙ্গ সিরিজে প্রথমবার তিন সংস্করণেই সিরিজ জেতার গৌরবে নাম লেখাবে সাকিব-তামিম-মুশফিকরা।
হোম অব ক্রিকেটে রানটা চূঁড়া ছুলেও স্বস্তি মিলছিল না। বাংলাদেশের মতোই শুরুটা দুর্দান্ত হল উইন্ডিজের। ৪ ওভারে দলীয় ফিফটি ছুঁয়ে সমানতালে লড়াইয়ের আভাস দিলেন শাই হোপ। রঙিন পোশাকে বাংলাদেশকে বড্ড বেশি ভোগানো এ ওপেনার ক্যাচ তুলে দিতেই স্বস্তি ফিরে আসে।
মেহেদী হাসান মিরাজের বলে লিটন দাসের হাতে হোপের ক্যাচটি তালুবন্দী হওয়ার পর বাংলাদেশ দলের উদযাপন দেখে মনে হয়েছে ম্যাচটা ওখানেই বগলদাবা! হয়েছেও তাই। হোপ সাজঘরে ফেরার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালে আর চোখ রাঙানি দিতে পারেনি ক্যারিবীয়রা।
রোভম্যান পাওয়েলের ৩৪ বলে ৫০ রানের ইনিংসটি কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। কিমো পলের ১৬ বলে ২৯ রানও দাপুটে জয়ের পথে বাধা হতে পারেনি।
তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে এভিন লুইসকে সাজঘরে পাঠান আবু হায়দা রনি। দলের রান তখন ১৮ হলেও এ বাঁহাতির অবদান মাত্র ১। ছন্দে থাকা হোপ ব্যাট চালিয়েছেন চেনারূপে। নিকোলাস পুরাণকে নিয়ে চালান তাণ্ডব। ৬ বলে ১৪ রান করে সাকিবের প্রথম শিকার হন পুরান।
তাতে ভাঙে ১৪ বলে ৪১ রানের জুটিটি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি পান মিরাজ। হোপ সাজঘরে ফেরার আগে করেন যান ১৯ বলে ৩৬ রান। মোস্তাফিজুর রহমানের এক ওভারেই তিনি নিয়েছিলেন ২৪ রান।
এদিন টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। শুরুর ওভারেই চলে আসে ১০ রান। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে ৬১। পরেও রানের স্রোত বইল একই ধারায়। ১০.১ ওভারে বাংলাদেশ পূর্ণ করে দলীয় শতক। ৩৪ বলে ৬০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা লিটন দাস সাজঘরে ফেরার পরও রান তোলার গতি থামেনি। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাকিব আল হাসানের অসাধারণ ফিনিশিংয়ে শুরুর মতোই হল শেষটা।
প্রথম ম্যাচে হেরে পিছিয়ে থাকা সিরিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে বাংলাদেশ তোলে ৪ উইকেট হারিয়ে ২১১ রান। যেটি নিজেদের দলীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহে দ্বিতীয়। তবে দেশের মাটিতে এটিই টাইগারদের সেরা সংগ্রহ।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রটি ২১৫/৫, গত মার্চে কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। নিধাস ট্রফির ওই ম্যাচে স্বাগতিকদের করা ২১৪ টপকে যায় বাংলাদেশ। আর ঘরের মাটিতে ও হোম অব ক্রিকেটে টাইগারদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল ১৯৩/৫। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে লঙ্কানদের বিপক্ষেই সেই সংগ্রহ গড়ে অবশ্য জেতা সম্ভব হয়নি।
শীতের সন্ধ্যায় মিরপুরে উষ্ণতা ছড়ান লিটন দাস। যতক্ষণ উইকেটে থাকলেন গ্যালারির দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখেন চার-ছক্কার প্রদর্শনীতে। উল্লাসে ফেটে পড়া গ্যালারি থেকে পালায় শীত! শেলডন কটরেলের বলে বোল্ড হওয়ার আগে হাঁকান ৬টি চার ও দর্শনীয় ৪টি ছক্কা।
ব্যাটিংয়ে নেমে তাতে বাংলাদেশ পায় দারুণ শুরু। বাঁহাতি স্পিনার ফাবিয়ান অ্যালেনের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে তামিম ইকবাল যখন ক্যাচ দেন, বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ৪.১ ওভারে ৪১ রান। এ বাঁহাতি ওপেনার ১৬ বলে একটি চারে করেন ১৫ রান।
দলীয় ফিফটি চলে আসে ৩৪ বলে। লিটনের ব্যাটের সঙ্গে তাল মেলান তিনে নামা সৌম্য সরকার। এ বাঁহাতি ২২ বলে ৩২ করে সাজঘরে ফেরার আগেই দলের সংগ্রহ একশ পাড়ি দেয়। জুটিতে আসে ৬৮ রান। কটরেলের দ্বিতীয় শিকার হওয়া সৌম্য ইনিংস সাজান ৩টি চার ও একটি ছক্কায়।
সৌম্যর পর ফিরে যান লিটনও। দুই সেট ব্যাটসম্যান পরপর সাজঘরে ফেরার পরও রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তাদের পঞ্চম উইকেট জুটির অবিচ্ছিন্ন ৯১ রান বাংলাদেশকে পাইয়ে দেয় বিরাট সংগ্রহ। সাকিব ২৬ বলে ৪২ ও মাহমুদউল্লাহ ২১ বল খেলে ৪৩ রানের অপরাজিত থাকেন।







