ব্রিটিশ জনগণ সমর্থন না করলে ব্রিটেনে রাষ্ট্রীয় সফরের ব্যাপারে অগ্রসর হতে চান না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে’র সাথে টেলিফোনে আলাপকালে এমনটি জানিয়েছেন ট্রাম্প। ব্রিটেনে ব্যাপক আকারে বিদ্রোহ হলে দেশটিতে আসতে চান না তিনি, iiএমন মন্তব্য ট্রাম্পের সফর আপাতত স্থগিত করলো।
সাম্প্রতিক সপ্তাহে এই ফোনালাপ হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটের এক উপদেষ্টার সূত্রে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। সেসময় এই উপদেষ্টা সেই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন এবং এই বিবৃতি প্রধানমন্ত্রীকে ‘অবাক’ করে বলেও তিনি জানান।
সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা লর্ড রিকেটসসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, আমন্ত্রণের বিষয়টিতে খুব তাড়াহুড়া হয়ে গেলেও একবার তা গ্রহণ তা বাতিল করা অসম্ভব।
ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম কোন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হোয়াইট হাউজ সফর করেন টেরেসা মে। ট্রাম্পের অভিষেকের ৭ দিনের মাথায় রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। তখন এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে টেরেসা জানান, চলতি বছরের কোন এক সময় যুক্তরাজ্যে সফরের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলেনিয়া ট্রাম্পকে রানীর পক্ষ থেকে তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করায় তিনি আনন্দিত বলেও তখন জানান।
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাষ্ট্রদূত লিউয়িস লুকেন্স গত সপ্তাহে লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের বিষয়ে ট্রাম্পের সাথে বিরোধপূর্ণ অবস্থান নেন। লন্ডন ব্রিজ ও বরোহ মার্কেটে সন্ত্রাসী হামলার পর সাদিক খানের বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে তার সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এমন হামলার পরও সাদিক খান বলছে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই! কিন্তু ট্রাম্পের সমালোচনার পরও সন্ত্রাসী হামলার পর সাদিক খানের শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন লিউয়িস।
পরে মেয়রের অফিস থেকে ট্রাম্পের ভুল ধরিয়ে দেওয়া হলেও প্রেসিডেন্ট লন্ডনের মেয়রকে ‘তুচ্ছ অজুহাত’ দেওয়ার দোষে সমালোচনা করেন। পরে মেয়রের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ বাতিলের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
লন্ডন ব্রিজ ও বরোহ মার্কেটের সেই হামলায় ৩ হামলাকারীসহ ১০ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হন।
লেবার নেতা জেরেমি করবিন ট্রাম্পের এই সফর আপাত স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে টুইট করেন, স্বাগতম, বিশেষ করে লন্ডনের মেয়রের প্রতি তার আক্রমণ এবং প্যারিস ক্লাইমেট ডিল থেকে তার বেরিয়ে আসার পর।
রিপাবলিকানদের একজন ডোনার এবং নিউ ইয়র্ক জেটস এর মালিক উডি জনসনকে যুক্তরাজ্যের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ঘোষণা করেছে ট্রাম্প, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এখনও মনোনীত করা হয়নি। বিশ্বজুড়েই অনেক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে পদ খালি রয়েছে, যেহেতু ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে মনোনীত করতে পারেননি।
ব্রেক্সিটের (ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া) পক্ষে রায় এবং ইউরোপিয়ান মিত্রদের ক্ষুদ্ধ করার মতো নীতির প্রতি ট্রাম্পের সমর্থনের পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের মধ্যে সম্পর্ক রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যুক্তরাজ্যের প্রচেষ্টা এখন আরও জটিল হয়ে উঠলো।
ব্রেক্সিট নিয়ে ইইউ এর সাথে আলোচনায় নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে আগাম নির্বাচন দিলেও তা হিতে বিপরীত হয় কনজারভেটিভ পার্টির জন্য। বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে উল্টো ১৩টি আসন হারিয়ে এখন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) সাথে জোট করে সরকার গঠনের পথে দলটি।








