যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্যের জেরে তাকে ব্রিটেনে নিষিদ্ধ করার দাবিতে শক্ত অবস্থান নিয়ে ব্রিটেনের মূলধারার গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন বঙ্গবন্ধুর নাতনি এবং লেবার দলীয় সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক। তবে ট্রাম্পকে ব্রিটেনে নিষিদ্ধ করার দাবি নাকচ করে দিয়েছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট।
ডেইলি মেইল এবং টেলিগ্রাফসহ ব্রিটেনের প্রায় সব গণমাধ্যমে টিউলিপের ওই দাবি ও দাবির পক্ষে বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে সংবাদ প্রকাশ করেছে।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, একজন মুসলিম এমপি সোমবারে ওয়েস্টমিনিস্টারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিষয়ে বিতর্কে মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাবের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিতর্কে ‘ছিন্ন ভিন্ন’ করার প্রতিজ্ঞা করেছেন।
প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার মানুষের স্বাক্ষর সংবলিত একটি পিটিশন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে দাখিল করা হয়। পিটিশনের বিষয়বস্তু হচ্ছে মুসলিম বিদ্বেষী যুক্তরাষ্ট্রের ধনুকুবের রাজনীতিক ট্রাম্পকে যেন যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে না দেওয়া হয়।
ক্ষুব্ধ টিউলিপ জানান, ‘যখন এমপিরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করার বিষয়ে বিতর্ক করবেন তখন আমি ট্রাম্পকে বিতর্কে ছিন্ন ভিন্ন করবো।’
টিউলিপ প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ‘যেহেতু পূর্বে যারা এমন ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এদেশে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়নি। তাহলে আলাদাভাবে কেনো ট্রাম্পকে এ অনুমতি দেয়া হবে? এজন্য যে সে একজন ধনুকুবের রাজনীতিবিদ?’
তিনি আরো বলেন, ‘যারা ট্রাম্পকে প্রবেশের যুক্তি দেখান, ট্রাম্পের উসকানিমূলক বক্তব্যের পরে আমেরিকায় মুসলিম বিরোধী সহিংসতা কি পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে তা তাদের ভালোভাবে দেখা উচিত।’
টিউলিপ সিদ্দিক এবং আরো কয়েকজন ব্রিটিশ এমপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ঠেকাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা একমাত্র থেরেসারেই আছে।
তবে ট্রাম্পকে ব্রিটেনে প্রবেশ না করতে দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার আগে সোমবার ‘হাউস অফ কমন্সে’ প্রায় ৩ ঘন্টা চলে ওই বিতর্ক। কিন্তু এই দাবির পক্ষে নন বেশির ভাগ ব্রিটিশ সাংসদরা।
লেবার পার্টির আরেক সাংসদ জ্যাক ডরমি বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাজ্যে তো দূরের কথা, তাকে যুক্তরাজ্যের ১ হাজার মাইলের মধ্যে ঢুকতে দেওয়া উচিত নয়।
ডরমির বক্তব্যের পাল্টা জবাবে দিয়ে টোরি এমপি অ্যান্ডু পারসি বলেছেন, এই নিয়ে কোনো আলোচনা হওয়াই অর্থহীন। জনগণের করের টাকা খরচ করে এই আলোচনার কোনো মানে নেই।
সাংসদের বেশিরভাগ মনে করেন, মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য ছিলো ‘অত্যন্ত বিপদজনক’। কিন্তু তাই বলে এখন যদি তাকে ব্রিটেনে ঢুকতে দেওয়া না হয় তাহলে সেটি হবে ‘অ্যান্টি-অ্যামেরিকান’।
ট্রাম্পকে ‘নির্বোধ প্রকৃতির এক বক্তৃতাবাজ নেতা’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন কোনো কোনো ব্রিটিশ এমপি। শুধু তাই নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সকল কথা-বার্তা বলেন, সেগুলোকে ‘বিষাক্ত’ বলেও মন্তব্য করেছেন একজন সাংসদ।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প থেমে নেই। অসম্মানজনক কথা বলা ও তাকে নিষিদ্ধ করার নানা বিতর্কের জন্য ব্রিটেনকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেছেন তিনি।
এছাড়া কোনো বিতর্কের তোয়াক্কা না করে কালও তিনি প্রচারণা চালিয়েছেন মার্কিন এক বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রচারণা চালানোর সময় খ্রিস্টান ধর্মকে রক্ষার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেছেন ‘এই দেশে ৭০-৭৫ শতাংশ মানুষ খ্রিস্টান, কেউ কেউ বলে আরো বেশি। অতএব আমাদের শক্তি আছে। যেভাবেই হোক আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং একসঙ্গে থাকতে হবে।’
নানা সময়ে মুসলিম বিরোধী ও অভিবাসী বিরোধী বক্তব্য দেওয়ার কারণে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তীব্র সমালোচনার স্বীকার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কিন্তু মুসলিমবিরোধী এক বক্তব্যে তিনি যখন বলেন যে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে কোনও মুসলমানকে আসতে দেওয়া উচিত নয়, তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেওয়া উচিত’ তখন তার বিরুদ্ধে দেখা দেয় প্রচুর ক্ষোভ।
সেই ক্ষোভ থেকেই এক পিটিশানে ৫ লাখ ৭৪ হাজার মানুষ স্বাক্ষর করে দাবী জানায়, ট্রাম্পকে যেনো ব্রিটেনে প্রবেশ করতে দেওয়া না হয়।






