মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একচ্ছত্র ক্ষমতা কতটা নিরঙ্কুশ থাকা উচিত – এ নিয়ে একটি বিশেষ শুনানি হয়েছে কংগ্রেসের একটি সিনেট কমিটিতে। ১৯৭৬ সালের ৪০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের পারমাণবিক হামলা চালানোর ক্ষমতা নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের ঘটনা ঘটল।
সিনেট পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির ওই শুনানির শিরোনাম পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেয়ার এখতিয়ার। নর্থ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বিভিন্ন হুমকির কারণে অনেকটা উদ্বিগ্ন হয়েই এমন শুনানির আয়োজন করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের যে নিজস্ব অধিকার রয়েছে তা বর্তমান প্রেসিডেন্টের হাতে কতটা নিরাপদ সেটা নিয়ে কংগ্রেসের ওই কমিটির শুনানিতে আলোচনা হয়।
শুনানিতে সিনেটরদের অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো যে কোনো সময় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে দিতে পারেন। তবে অন্যদের মতে, আইনজীবীদের হস্তক্ষেপ ছাড়াই তার এই কাজ করার এখতিয়ার থাকা উচিত।
মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মাঝে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অধিকার ও ক্ষমতা নিয়ে এমন প্রশ্ন ও উদ্বেগের শুরু গত অাগস্ট থেকে, যখন নর্থ কোরিয়ার টানা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় ক্ষেপে গিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, নর্থ অস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ না করলে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দিতে থাকলে এর জবাবে শিগগিরই এমন ব্যবস্থা নেয়া হবে যা বিশ্ব এর আগে কখনো দেখেনি।
গতমাসে সিনেট কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান সিনেটর বব কর্কার অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন’।
ক্যাপিটাল হিলে অনুষ্ঠিত ওই শুনানিতে কানেক্টিকাটের ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস মারফি বলেন, ‘আমরা উদ্বিগ্ন যে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট এতটাই অস্থির, পরিবর্তনশীল মানসিকতার অধিকারী এবং তার সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়া এতটাই বাস্তবজ্ঞানহীন যে, তিনি হঠাৎ করে এমন পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে দেবেন যা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য খুব বেশি প্রতিকূল।’
শুনানিতে আইনজ্ঞ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সেনা কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও তাদের মতামত দেন। জরুরি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতা থাকার পক্ষেও মত দেন কেউ কেউ। তবে পারমাণবিক অস্ত্রাগারগুলোর আধুনিকায়নে সবাই একমত হন শুনানি শেষে।








