মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যোগ্যতা এবং মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে চিকিৎসক জানিয়েছেন, পরীক্ষায় ট্রাম্পের মানসিক সমস্যার আলামত পাওয়া যায়নি। তবে ওজন কিছু কমানো দরকার।
হোয়াইট হাউজের বর্তমান ও প্রাক্তন প্রায় ২০০ সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন নিয়ে মাইকেল উলফ রচিত বিতর্কিত বই ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি: ইনসাইড দ্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ’ প্রকাশের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মানসিক সুস্থতার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এই প্রশ্নের সন্দেহ দূর করতে গত শুক্রবার টানা তিন ঘণ্টা ট্রাম্পের কগনিটিভ (মানসিক অবধারণ) স্ক্রিনিং টেস্ট এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টারের সেই পরীক্ষার ফলাফল জানিয়ে হোয়াইট হাউজ চিকিৎসক রনি জ্যাকসন এ কথা বলেন।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ড. জ্যাকসন বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের অবধারণগত যোগ্যতা বা স্নায়ুগত সুস্থতা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। তার স্বাস্থ্যও পুরোপুরি ভালো। তবে তার ওজন বেশি এবং উচ্চতা অনুযায়ী তিনি স্থূলতার ঠিক আগের সীমানায় রয়েছেন। রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলেও কোলেস্টেরল বাড়তির দিকে।’
ডিমেনশিয়া বা আলজেইমার্স ডিজিসের মতো কোনো স্নায়ুগত অসুস্থতার দিকে ট্রাম্প এগোচ্ছেন কিনা তা জানার জন্য শুক্রবার বিখ্যাত মনট্রিল কগনিটিভ অ্যাসেসমেন্ট নামের পরীক্ষাটি করা হয় তাকে। সেখানে ৩০টি প্রশ্নের ৩০টিরই সঠিক উত্তর দিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও এই পরীক্ষা থেকে কারও মানসিক সুস্থতা পরীক্ষা করা যায় না।
তবে নিয়মিত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সময় কাটানো ড. জ্যাকসন বলেন, ট্রাম্পের মধ্যে মানসিক অসুস্থতার কোনো লক্ষণই তিনি দেখেননি। ‘প্রেসিডেন্ট মানসিকভাবে খুবই তীক্ষ্ণ ও সুস্থ।’
ট্রাম্পের হৃদযন্ত্রের অবস্থাও খুব ভালো বলে জানান এই চিকিৎসক।

৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার ৭১ বছর বয়সী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওজন ১০৮ কেজি। ফ্রায়েড চিকেন, হ্যামবার্গার ও স্টেকের মতো বেশি তেল-চর্বি ও ক্যালরিযুক্ত ভারী খাবার খুব পছন্দ তার। এগুলো খান খুব বেশি।
ভবিষ্যতে ওজন আরও বাড়লে অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন বলে এখন থেকে খাদ্যাভ্যাস পাল্টে ও নিয়মিত ব্যায়াম করে ট্রাম্পকে ওজন কমাতে পরামর্শ দিয়েছেন জ্যাকসন। এজন্য তিনি হোয়াইট হাউজের রাঁধুনিদের সঙ্গে কাজ করার জন্য একজন পুষ্টিবিদ নিয়োগ করবেন নিজেই প্রেসিডেন্টের জন্য একটি দৈনিক ব্যায়ামের রুটিন তৈরি করবেন বলে জানিয়েছেন।







