মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভানকা ট্রাম্প এবার বাবার আসনেই বসে পড়লেন! জার্মানির হামবুর্গে জি-২০ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের বৈঠকটি এই বিরল ঘটনার সাক্ষী হলো। কোন পদবলে ইভানকা এমনটি করলেন তাই নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। বাবার উপদেষ্টা হলেও এমন ক্ষেত্রে বসতে পারতেন শুধু মাত্র যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাই।
ইন্দোনেশিয়ান নেতার সাথে সাক্ষাতের কারণে শনিবারের এই বৈঠকের সময় উঠে আসতে হয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। তখনই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বাবা তথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন ইভানকা। তবে কিছু সময় পরে আবার নিজের আসনে ফিরে আসেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-য়ের মাঝে বসেন তিনি।
বিবিসির প্রতিনিধি জানান, এই ধরনের কোন ঘটনার কথা তিনি স্মরণ করতে পারছেন না। সামাজিক মাধ্যমেও চলছে তুমুল সমালোচনা।
আফ্রিকার অভিবাসন এবং স্বাস্থ্য বিষয়ের উপর সেই অধিবেশন চলছিলো। তবে বাবার অনুপস্থিতিতে ইভানকা ট্রাম্প কোন গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন করতে পারেন নি। ইভানকার উপস্থিতির সেই ছবিটি টুইট করেন রাশিয়ান একজন প্রতিনিধি, কিন্তু পরে তা সরিয়ে নেন তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা করে বলা হয় ইভানকা ট্রাম্প নির্বাচিত নন, তার পদমর্যাদা নিয়েও প্রশ্ন উঠে। একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের মালিক হিসেবে এমন শীর্ষ কূটনৈতিক বৈঠকে তিনি কি ভাবে বসেন? এমন প্রশ্নও করা হয়।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতাদের সাথে ইভানকার উপস্থিতির বিষয়ে ব্যঙ্গ করছেন অনেকেই। এক্ষেত্রে ইভানকার দুই সপ্তাহ আগের এক সাক্ষাৎকার তুলে ধরেন তারা, যেখানে ইভানকা ‘রাজনীতি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেন’ বলে দাবি করেন।
এদিনের আগের অধিবেশনেও বাবার সাথে যোগ দেন ইভানকা, যেখানে নারীর উদ্যোগ এবং অর্থায়ন বিষয়ে আলোচনা হয়। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরিচালক ক্রিস্টিন লাগার্দও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এপ্রিলে বার্লিনে জি২০ ওমেন্স সামিটের একটি প্যানেলেও এই তিনজন একসাথে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেসময় ইভানকা তার বাবার প্রশংসা করে বলেছিলেন, “পরিবারকে সমর্থন এবং তাদের বিকাশের ক্ষেত্রে তিনি (ট্রাম্প) অসাধারণ বিজয়ী”।
নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে শনিবারের শুরুর একটি প্যানেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তাকে বাবা হিসেবে পাওয়াটাই ইভানকার জীবনে একমাত্র খারাপ দিক। আমি আমার কন্যা ইভানকার জন্য অত্যন্ত গর্বিত, যেমনটি সব সময় ছিলাম। বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প এমনটি বলেন।
ইভানকার ভাই ডোনাল্ড জুনিয়র এবং এরিক যেখানে পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করছেন, সেখানে ইভানকা তার নিজস্ব ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সম্পদ একটি ট্রাস্টের অধীনে নিয়েছেন হোয়াইট হাউজের অবৈতনিক পদটির জন্য। এক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও রয়েছে।
কৈশোরেই কিছু সময়ের জন্য মডেলিং করেছিলেন ইভানকা। পরে বাবার কোম্পানিতে চাকরী নেন। সেখানে সফলতার সাথে ট্রাম্প হোটেল ব্র্যান্ডের পরিসর আরও বাড়ান। এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট অব ডেভেলপমেন্ট পদধারী হয়ে উঠেন।
ইভানকা ট্রাম্পের স্বামী জেরেড কুশনার ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাবশালী ভূমিকায় রয়েছেন।







