ফ্রান্সের নিস শহরে ট্রাক নিয়ে হামলাকারী মোহাম্মদ লাওয়েজ বুলেল ধার্মিক ছিল না বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রীর এক ভাই ওয়ালিদ হামু। তার দাবি, বুলেলের পক্ষে একজন জিহাদী হওয়া অসম্ভব।
৩১ বছর বয়সী বুলেলকে গালি দিয়ে ওয়ালিদ বলেন, ‘সে (বুলেল) কখনো মসজিদে যায়নি, প্রার্থনা করেনি, রোজা রাখেনি। সে মদ্যপান করত, শুকরের মাংস খেত, মাদকদ্রব্য সেবন করত। এমনকি যে স্ত্রীর সঙ্গে তার তিনটা সন্তান আছে, তাকে মারধরও করত। এ সবকিছুই ইসলামে নিষিদ্ধ। সে ইসলামের কোনো নিয়মই পালন করত না। সে মুসলিম নয়!’
বৃহস্পতিবার নিসে বাস্তিল দিবসের অনুষ্ঠানে ট্রাক নিয়ে হামলা চালিয়ে ৮৪ জনকে হত্যা করে তিউনিশিয়ান বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক বুলেল। নিহতদের ১০ জনই শিশু। ওই ঘটনায় আহত হয়েছে ২ শতাধিক মানুষ। এদের মধ্যে ৫২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ২৫ জন আছে লাইফ সাপোর্টে।
ঘটনার পর বুলেলের স্ত্রীকে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে স্ত্রী হাজের খালফাল্লাহ জানান, ট্রাক চালক বুলেলের মধ্যে কখনও ‘মৌলবাদী লক্ষণ’ দেখা যায়নি। তবে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দু’বছর আগে বুলেলের সঙ্গে হাজেরের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় এবং হাজের আদালতে তালাকের আবেদন করেন। তাদের ৫ ও ৩ বছর এবং ১৮ মাস বয়সী তিনটি সন্তান রয়েছে।
হাজেরকে পুলিশি হেফাজতে নেয়ার পর বুলেলের অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালায় পুলিশ।
গত জানুয়ারিতেই ছোটখাটো বিভিন্ন অপরাধের কারণে বুলেলের নাম পুলিশের খাতায় ওঠে। বুলেল পণ্য সরবরাহকারী ট্রাকের চালক হিসেবে কাজ করার সময় গাড়ি চালাতে চালাতেই ঘুমিয়ে চায় এবং চলন্ত ট্রাক চারটি গাড়ির ওপর তুলে দেয়। ওই ঘটনায় তার চাকরি চলে যায়। এরপর একটি বার-এ মারামারির জন্য গ্রেফতার হয় বুলেল।
বৃহস্পতিবার বাস্তিল দিবসের উৎসবে মানুষের ভীড়ে ট্রাক নিয়ে ঢোকার সময় আটকায় পুলিশ। তখন পুলিশকে জানায় সে পার্কে আইসক্রিম নিয়ে যাচ্ছে। সে কারণে পুলিশ তাকে ট্রাকসহ ভেতরে ঢুকতে দেয়। পার্কের ভেতর বেশ কয়েক ঘণ্টা বুলেল ট্রাক নিয়ে অপেক্ষা করেছিল।
একসময় সে হঠাৎ ট্রাক চালিয়ে ভীড়ের ভেতর ঢুকে পড়ে এবং ২৫ টনের ট্রাকের নিচে ফেলে ও গুলি করে নির্বিচারে হামলা চালাতে থাকে।







