সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে আবারও মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর। হারারের ২২ গজে ধৈর্যের অনন্য নজির দেখানো টাকুদজয়নাশে কাইটানোকে ফিরিয়েছেন সাকিব আল হাসান। শেষবেলায় স্বাগতিকদের সেরা দুই ব্যাটসম্যানকে আউট করে স্বস্তি নিয়ে চতুর্থ দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ।
সিরিজের একমাত্র টেস্টে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৪০ রান। জিততে পঞ্চম দিনে জিম্বাবুয়েকে করতে হবে আরও ৩৩৭ রান। আর সাকিব-মিরাজ-তাসকিনদের চাই প্রতিপক্ষের ৭ উইকেট।
জিম্বাবুয়েকে ৪৭৭ রানের বিশাল লক্ষ্য দিয়ে শুরুতেই সাফল্য পেয়ে যায় বাংলাদেশ। ১৫ রানের মাথায় মিল্টন সুম্বাকে (১১) ফিরিয়ে স্বাগতিকদের ওপেনিং জুটি ভাঙেন তাসকিন আহমেদ।
আরেক ওপেনার কাইটানো উইকেটে পড়ে থেকে লড়াই চালিয়ে যান। অন্যদিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন স্বাগতিক অধিনায়ক টেলর। একে পর এক বাউন্ডারিতে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য হুমকি হয়ে ওঠেন।
কাইটানো যখন ২ রানে ব্যাট করছেন, টেলর তখন সেঞ্চুরির অপেক্ষায়। বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির হাওয়া বইয়ে দিয়ে ব্যক্তিগত ৯২ রানে মিরাজের বলে উইকেট বিলিয়ে দেন তিনি। হন কট অ্যান্ড বোল্ড। ডানহাতি ব্যাটসম্যান খেলেন মাত্র ৭৩ বল। তার ইনিংসে ছিল ১৬টি চার।
দ্বিতীয় উইকেটে ৯৫ রানের জুটি ভাঙার পর কাইটানোও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সাকিবের ঘূর্ণিতে হন এলবিডব্লিউ। ১০২ বল খেলে করেন ৭ রান। একমাত্র বাউন্ডারিটি মারেন ৮৩তম বল মোকাবেলায়।
ডিওন মেয়ার্স ১৮ ও নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা ডোনাল্ড ত্রিপানো ৭ রানে অপরাজিত আছেন।
মুখোমুখি দেখায় এপর্যন্ত ১৭ টেস্টে দুই দলই জিতেছে সাতটি করে ম্যাচে। তিনটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। এই টেস্ট যারা জিতবে জয়ের সংখ্যার দিক থেকে তারাই এগিয়ে যাবে।
শনিবার সাদমান ইসলাম ও নাজমুল হোসেন শান্তর জোড়া সেঞ্চুরিতে ১ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।
চতুর্থ দিনের চা বিরতির আগে ইনিংস ঘোষণা করে দেন মুমিনুল হক। সাদমান ১১৫ ও শান্ত ১১৭ রানে অপরাজিত থাকেন। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দুজন অবিচ্ছিন্ন থেকে যোগ করেন ১৮৯ রান।
প্রথম ইনিংসে ১৯২ রানের লিডে বাংলাদেশ চালকের আসনে ছিল তৃতীয় দিনেই। চতুর্থ দিনে দারুণ ধৈর্য দেখিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন সাদমান।
দ্রুত রান তোলার দায়িত্ব কাঁধে নেয়া শান্ত পান দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা। এ বাঁহাতি তিন অঙ্ক ছোঁয়ার খানিক পরই ইনিংস ঘোষণা করে সফরকারীরা।
সকালে প্রথম টেস্ট ফিফটির খুব কাছে গিয়ে আউট হন সাইফ হাসান। ৯৫ বলে ৪৩ রান করে এনগ্রাবার বলে মেয়ার্সের হাতে ধরা পড়েন টাইগার ওপেনার।
আগের দিনের অবিচ্ছিন্ন ৪৫ রানের ওপেনিং জুটি দীর্ঘ হয় ৮৮ রান পর্যন্ত। তিনে নামা শান্ত ব্যাট করতে থাকেন আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে। ১০৯ বলে ছুঁয়ে ফেলেন তিন অঙ্ক। ১১৮ বলে ১১৭ রানের ইনিংসটি সাজান পাঁচ চার ও ছয় ছক্কায়।
অন্যদিকে বেশ ধৈর্য নিয়ে ব্যাট করা সাদমান ১৯৬ বলে খেলেন ১১৫ রানের অপরাজিত ইনিংস। এ তরুণ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান চার মারেন নয়টি।







