যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অঙ্গরাজ্যে এল পাসোর ওয়ালমার্ট স্টোরে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে ২০ জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা বর্ণ বিদ্বেষী হামলা কি না তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩ জন মেক্সিকান।
ঘটনার পরপরই এর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক শ্বেতাঙ্গ তরুণকে আটক করা হয়েছে। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বর্ণ বিদ্বেষের কারণেই হামলা করা হয় বলে সন্দেহ তদন্ত কর্মকর্তাদের।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্ড্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওই হামলায় নিহত মার্কিন ও মেক্সিকান পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
মেক্সিকো সীমান্ত থেকে কয়েক মাইল দূরের শহর এল পাসোর ওই ওয়ালমার্ট স্টোরে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে ২১ বছর বয়সী প্যাট্রিক ক্রুসিয়াস নামের এক শ্বেতাঙ্গ যুবক। হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, প্যাট্রিক ক্রুসিয়াস একাই মাত্র ছয় মিনিটে এ হামলা চালায়।
নিহত ওই ২০ জনের মধ্যে দুই বছর থেকে শুরু করে ৮২ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত রয়েছেন।
এল পাসোর পুলিশ প্রধান গ্রেগ অ্যালান বলেন, বর্ণবাদী না অভিবাসন বিরোধীর বিদ্বেষে এমন নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে; তা নিশ্চিত হতে তদন্ত কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্ট চার্চে চালানো হামলার প্রতি সমর্থন জানিয়ে এই হামলাকারী এ হামলা চালান বলে জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, নিউজিল্যান্ডের হামলার সঙ্গে এই হামলার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
টেক্সাসের মেয়র গ্রেগ অ্যাবট এই হামলাকে দেশটির ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ দিন বলে বর্ণনা করেছেন। নিহত ও আহতের পরিবারে প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়ে টুইট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এই ঘটনায় ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট দুই প্রার্থী বেটো ওরউর্ক ও পেটে বাটিগিয়েজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গদের পুনরুত্থানের কারণেই ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।
এর আগে বেটো ওরউর্ক লাস ভেগাসে একটি প্রচারণা অনুষ্ঠান স্থগিত করে ঘরে ফিরে আসেন।
পেটে বাটিগিয়েজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার নিজ দেশের শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী দ্বারা আক্রমণের শিকার হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী চিন্তার বাড়িয়ে দেয়ার পেছনে ট্রাম্প দায়ী কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বেটো ওরউর্ক বলেছেন ‘হ্যাঁ’।







