অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম মন্তব্য করে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য গবেষণা ও নতুন নতুন উদ্ভাবন দরকার। তবে এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
মঙ্গলবার মেট্রোপলিটন চেম্বার্স অব কমার্স আয়োজিত ‘হরাইজন-২০২০: অপরচুনিটিস ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ অর্থনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। নিম্ন আয়ের দেশ থেকে এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এখন লক্ষ্য, মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হওয়া।
“তবে জলবায়ুর পরিবর্তন ও বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকায় লবণাক্ততার প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিখাতে গবেষণা ও নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের গবেষণা সুফল বয়ে আনবে। সামাজিক ও শিল্পখাতের বিভিন্ন বিষয়ে এ গবেষণা করা দরকার।”
দেশের উন্নয়নে গবেষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সমসাময়িক বিষয়গুলোর মধ্যে জনমিতি, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবেশ সম্মত জ্বালানি, ঔষধ শিল্প, ব্লু-ইকনমি, সফটওয়ার শিল্প প্রভৃতি খাতে যৌথ গবেষণা কর্মের সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে দেশের গবেষক ও উদ্ভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে।
ই-কমার্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে ই-কমার্সের বড় বাজার তৈরি হয়েছে। কিন্তু তার জন্য যে অবকাঠামো দরকার তা নেই। সফটওয়ার খাতেও বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এসব খাত নিয়েও কাজ করতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বড় প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়েছে মন্তব্য করে অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ এ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গবেষণা খুব জরুরি। গবেষণার মাধ্যমে ত্বরান্বিত করতে হবে ভবিষ্যতের উন্নয়নমূলক কাজ।
বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের গবেষণা কাজে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডেলিগেট পিয়েরে মায়াদুন বলেন, ইইউ বরাবরই বাংলাদেশের উন্নয়নের পাশে ছিল। ভবিষ্যতেও থাকবে। ইইউ গবেষণাখাতে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নিহাদ কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।








