১.
বাণিজ্য মেলার পরের মাসে বইমেলা। তাই দর্শক সমাগম বেশি। ক্রেতারা দুই মেলায় ব্যবসার পার্থক্য করে দেন। বইমেলায় বাণিজ্য লক্ষ্মী দুর্বল হইবেন, আর স্বরসতী ‘অ্যাটেনশন’ পাইবেন– এটাই স্বাভাবিক। যে মধ্যবিত্ত শ্রেণীটা বই কিনে মেলাটা জমিয়ে রাখবে, সেটাকে নির্মূল করা হয়েছে। এটাই ক্যাপিটালিজমের শ্রেণী সংগ্রাম। এখানে লক্ষ্মীরাই স্বরসতী সাজবেন। ড্রয়িংরুমটা বই দিয়ে সাজাবেন। এখন প্রমো দেখেই যেমন ফুললেন্থ সিনেমার সমালোচনা করা যায়, বইয়ের ফ্ল্যাপ আর রিভিউ পরেই আপডেট থাকা যায়– বই পড়া লাগে না।
২.
সদ্য এমবিএ পাশ করা এক এক্সুকেটিভের বেতন যখন ১৫-২০ হাজার টাকা, তখন তার অফিসের সামনে চা-পান-বিড়ি-সিগারেট বিক্রি করে কেউ ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় করছে। অর্থনীতির মারপ্যাচে যখন শিক্ষিত সমাজকে মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্তে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে, তখন দুই দফা উইন্ডোশপিং শেষে ছক কষে হাড়ি-পাতিল, পাকিস্তানি লন, ইরানি কার্পেট নিয়ে বাড়ি ফেরা দম্পতির বইমেলায় খরচ করার মতো পয়সা থাকে না। ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় করা চা-বিক্রেতারা বইমেলার ক্রেতা নয়।
৩.
টিভি ক্যামেরা না থাকলে বইমেলায় কাউয়াও ঢুকবে না!
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







