টাঙ্গাইলে কালিহাতী উপজেলার সল্লা এলাকার বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের পাশের রেললাইনের ফাঁকা অংশে ঘনঘন ট্রেনে কাটা পড়ে নিহতের ঘটনা ঘটছে। একই এলাকায় বারবার এমন ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষের মনে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। অধিকাংশ নিহতের নাম-পরিচয় না পাওয়ায়, হত্যা না দুর্ঘটনা তা নিয়ে সন্দেহ করছেন অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দা আশিকুর রহমান বলেন, এই এলাকায় যে হারে দুর্ঘটনা ঘটছে, তাতে হত্যা করে আলামত গোপন করতে লাশ ট্রেন লাইনের ফাঁকা অংশে ফেলে রাখা হচ্ছে কি’না তা খতিয়ে দেখা দরকার।
একই এলাকায় গতকালও অজ্ঞাত ১৫ বছরের এক কিশোর এবং আজ ৩০ বছরের এক মহিলা ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে।
কালিহাতীর সল্লা এলাকার যে অংশে দুর্ঘটনা ঘটছে তা ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক লাগোয়া জনবসতীহীন ফাঁকা জায়গায়। জনবসতিহীন এমন ফাঁকা জায়গায় বারবার দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না স্থানীয়রা।
এবিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ আছাবুর রহমান বলেন, রেললাইন ও তার সংলগ্ন এলাকা দায়িত্ব বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের। বিষয়টি তাদের তদন্তের আওতায়। এবিষয়ে আমরা তদন্ত ও মন্তব্য করতে পারিনা। তবে এটা সত্য ওই অংশে ঘনঘন এমন ঘটনা ঘটছে। যার কারনে সাধারণ মানুষ মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল ৯ মে সকালে উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের কামাক্ষা মোড় নামক স্থানে ট্রেনে কাটা পড়া দ্বিখন্ডিত এক কিশোরের মরদেহ রেললাইনের পাশে পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। এসময় ওই কিশোরের গলায় ও কোমরে দু’টি প্লাষ্টিকের রশি দেখতে পান তারা। প্লাষ্টিকের মোটা রশিতে দু’টি বড় তাবিজ বাঁধা ছিলো। সুতার পরিবর্তে প্লাষ্টিকের রশিতে তাবিজ বাঁধা থাকায় এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়।
কেউ তাকে হত্যা করে আলামত গোপন করতে ট্রেন লাইনে ফেলে গেছে বলেও ধারণা করছেন তারা। ওই স্থানে তার মরদেহ পাওয়া গেলেও তাকে কেউ চেনে না। পরে রেলওয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে যায়। আজ রাতের কোন সময় সল্লা এলাকার হাতিয়ার ফাঁকা অংশে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হয় অজ্ঞাত ৩০ বছরের এক নারী। এঘটানাতেও নিহতের নাম পরিচয় জানাতে পারেনি কেউ।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব স্টেশনের স্টাফ মুসলেম উদ্দিন বলেন, উপজেলার হাতিয়ায় রাতে কোন এক সময় ট্রেনে কাটা পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়। আজ বুধবার সকালে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। এ ঘটনায় লাশ উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে ট্রেনটির নাম ও ঘনঘন দুর্ঘটানার বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।








