জনপদ

টাঙ্গাইলে কলেজ ছাত্রীকে দলবেধে ধর্ষণ

Close-up of clenched fists with a red microphone nearby. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

Close-up image of two clenched fists resting on a surface, with a red microphone visible in the corner. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এক কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ করে দলবেধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এলাকার চিহ্নিত বখাটেদের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার মোমিনপুর ব্রীজ এলাকা থেকে অপহরণ করে রাতভর দলবেধে ধর্ষণ করা হয় কলেজ ছাত্রীটিকে। বর্তমানে সে টাঙ্গাইলের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী বলেন, তিনি একটি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়াশুনা করেন। তার বাবা নেই। হতদরিদ্র পরিবারে মা একমাত্র সদস্য। কঠিন সংগ্রাম করেই তাদের জীবন চালাতে হয়। পরিবারের আর কোন সদস্য না থাকায় দৈনন্দিন বাজার সদাই করতে হয় তাকেই। গতকাল সন্ধ্যায় গোপালপুরের মোমিনপুর বাজার থেকে বাজার করে ফেরার পথে অপহরণের শিকার হন তিনি।

তিনি আরো বলেন, এরপর মুখবেঁধে নৌকায় তুলে নিয়ে যায় সাইফুল, এনামুল, খালেক, জালাল ও আলতাফ। পরে কাগুজীআটার গ্রামের এক পরিত্যক্ত বাড়িতে হাত মুখ বেঁধে রাতভর পাশবিক নির্যাতন চালায় তারা। বাধা দেয়ায় চালানো হয় শারীকি নির্যাতন। নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়লে ভোরের দিকে নদীর পাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বখাটেরা। অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে বিষয়টি তার মাকে জানান।

তিনি এ ঘটনার জন্য সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। এ বিষয়ে মেয়েটির নানা বলেন, রাতে মেয়েটি বাড়ী ফিরে না আসায় ও ফোন বন্ধ থাকায় অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়। পরে সকালে এমন অবস্থায় পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করেছি। তাৎক্ষণিক গোপালপুর থানা পুলিশকে অবহিত করলেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি। পরে জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিরা হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। মেয়েটির মা জানান, এর আগে মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলো বখাটে সাইফুল। তা বারবার প্রত্যাখ্যান করায় প্রতিনিয়ত দেয়া হত হুমকি। বখাটেরা প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি কোন প্রতিকার পান নি।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. কামরুজ্জামান বলেন, মেয়েটির শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের আলামত রয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার পর বিস্তারিত জানা যাবে। টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়েই পুলিশি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভিকটিম ও তার পরিবারকে সব ধরণের আইনগত ও মানবিক সহায়তা দেয়া হবে। অপরাধীরা যতোই প্রভাবশালী হোক না কেন দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এলাবাসী ও সচেতন মহল। তাই জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

বিষয়:অপহরণ কলেজ ছাত্রী দলবেঁধে ধর্ষণ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…