বিশ্বকাপ প্রায় দুয়ারে, কিন্তু পুরোপুরি না। আইপিএলও প্রায় সম্পন্ন, কিন্তু একেবারে শেষ হয়নি। এই মধ্যবর্তী সময়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ এসেছে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে, যেখানে প্রতিটি দল মাঠে ভিন্নতর কিছু করার চেষ্টা করবে।
বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নামাচ্ছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজের তৃতীয় দল স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড অবশ্য বিশ্বকাপে নেই। রোববার উদ্বোধনী ম্যাচে একে অপরের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
কিন্তু বিশ্বকাপে না থাকা এই দলটিই একদিন আগে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের একনম্বর দল উড়তে থাকা ইংল্যান্ডের যে পরীক্ষা নিয়েছে, তাতে আইরিশদের কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিতে হতে পারে ‘অনভিজ্ঞ’ ক্যারিবীয়দেরও।
সানরাইজার্স হায়দারাবাদকে বিদায় জানিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের দলে যোগ দিয়েছেন সাকিব আল হাসান এবং দেশের পঞ্চপাণ্ডব নামে খ্যাত সদস্যদের অন্য চারজনকেও দলে সমবেত করেছে টাইগাররা। তাদের জন্য এটা বিশ্বকাপের আগে সমন্বয়ের সেরা সুযোগ। ব্রিটিশ কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ারও একটি বড় সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ।
রোববার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে মাঠে নামতে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ‘অনভিজ্ঞ’ বলা হচ্ছে এই কারণে যে, বাংলাদেশ সিরিজে বিশ্বকাপের পূর্ণ শক্তি পেলেও বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ১৪ সদস্যের অর্ধেককেই পাবে না জেসন হোল্ডারের দল।
ক্যারিবীয় দলের ওই সদস্যরা এখন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) ব্যস্ত। ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল, নিকোলাস পুরান, এভিন লুইস, সিমরন হেটমায়ার, ওশানে থমাস ও কার্লোস ব্র্যাথওয়েট- তারা সবাই আইপিএলে খেলছেন।
তবে তাদের না থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে রিজার্ভ বেঞ্চ ঝালিয়ে নেয়ার একটা সুযোগ করে দেবে। বিশেষ করে সুনিল অ্যামব্রিস, জন ক্যাম্পবেল, শেন ডওরিচ এবং রেমন রেইফারের মতো তরুণদের সুযোগ দেয়া হচ্ছে এ সিরিজে।
গত মার্চে একনম্বর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ভালো করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তখন পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-২তে ড্র করে তারা। একটি ম্যাচ অবশ্য বৃষ্টিতে ভেসে যায়।
সে হিসেবে একটি শক্তিশালী দলকেই সামনে পেতে যাচ্ছে আয়ারল্যান্ড। একাধিক তরুণ থাকলেও দলে ড্যারেন ব্রাভো এবং সাই হোপের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান আছেন। বোলিংয়ে অধিনায়ক হোল্ডারকে সঙ্গ দিতে আছেন শেলডন কর্টেল, কেমার রোচ ও শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের মতো গতি দানবরা।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চিন্তায় রাখবে আয়ারল্যান্ডের সাহস। শুক্রবার ১৯৮ রান করেও ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ‘তরবারি’ যেভাবে ভোতা করে দিয়েছে তারা, তাতে ৭মে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে ক্যারিবীয়দেরও।
বোলারদের দুর্দান্ত পারফর্মের আগে ব্যাটিংয়ে আইরিশদের দারুণ শুরু এনে দিয়েছিলেন উইলিয়াম পোটারফিল্ড, পল স্টার্লিং ও অ্যান্ড্রু বেলব্রিনে। এই তিন জনই ম্যাচে জ্বলে উঠতে পারলে লড়াই করার মতো পুঁজি পেয়ে যেতে পারে স্বাগতিকরাও।
এই সিরিজের একদিন আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে দুই আইরিশ তরুণ লোরকান টাকার ও জস লিটলের। ইংলিশদের বিরুদ্ধে ৪৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে নিজের আবির্ভাবটা জানান দিয়েছেন বোলার লিটল। ইংলিশদের বিপক্ষে ভালো না করতে না পারায় এই সিরিজে মিডলঅর্ডারে আলাদা করে নিজের জাত চেনানোর তাড়না থাকবে টাকারের।
সবশেষ যখন এই দুদল মুখোমুখি হয়েছিল, তখনও কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিপদে ফেলেছিল আয়ারল্যান্ড। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জেতে ক্যারিবীয়রা। জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সুপারে সিক্সের ম্যাচে প্রথম ব্যাট করতে নামা হোল্ডার বাহিনীর ৮৩ রানেই ৫ উইকেট তুলে নিয়েছিল আইরিশ বোলাররা।
একসময় ১৬৯ রানে ৬ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৫৭ রানে পৌঁছে দিয়ে উদ্ধার করেন রোভম্যান পাওয়েল। তিনি অবশ্য রোববারের ম্যাচে দলে নেই।
শুক্রবার ইংল্যান্ড ম্যাচেও আয়ারল্যান্ড দেখিয়ে দিয়েছে, যেকোনো প্রতিপক্ষকে গাড্ডায় ফেলার সামর্থ্য তাদের রয়েছে। আগের ম্যাচগুলোতে হয়ে হয়েও শেষ পর্যন্ত হয়নি। অনেকটা ‘খর্ব শক্তির’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এবার কাজটা শেষ করতে পারবে আয়ারল্যান্ড?







