অগ্নিগর্ভে ফেলার উপলক্ষ নিয়ে আরও দুই দিনের অপেক্ষা। সেই দুই দিনে করতে হবে ২৯৫ রান। হাতে দশ উইকেট। আলোক স্বল্পতার কারণে আগেভাগে শেষ হওয়া তৃতীয় দিনের পর বাংলাদেশের কী ভাবা উচিত? জয়ের কথা নাকি ড্রয়ের কথা?
তৃতীয় দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের পূর্বে শেষ হওয়ায় চতুর্থ দিন শুরু হবে ৩০ মিনিটি আগে, সকাল সাড়ে ৯টায়।
দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চয়ই বাংলাদেশের পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রশ্নের একটা উত্তর পাওয়া যাবে। কিন্তু একটি উত্তর এখনো মিলছে না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেটে প্রথম টেস্টে তিন দিন ধরে বাংলাদেশ যে ক্রিকেট খেলল, টেস্ট মেজাজ কিংবা এই বাংলাদেশের সঙ্গে সেটি কতটুকু যায়?
তাইজুলকে সরিয়ে রাখলে প্রাপ্তির খাতায় এখনো কিছু মিলছে না। প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেয়ার মানসিকতার কথাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। সেটি বেশি সামনে আসছে রিয়াদের ‘ঢিলেঢালা’ অধিনায়কত্বের কারণে। প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ে ২৮২ রানে অলআউট হয়। অথচ আরেকটু আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজালে, বোলিং পরিবর্তনে আরেকটু বৈচিত্র্য আনলে এতদূর তাদের যাওয়ার কথা নয়। দ্বিতীয় ইনিংসে দলটি তুলতে পারে ১৮১। তাতে লিড হয় ৩২০ রানের। তাইজুল ইসলাম দুই ইনিংসে ১১ উইকেট না পেলে এই বোঝা আরও বাড়ত!
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের যে ব্যাটিং ছিল, সেটি মনে করেই সামনের দুই দিন নিয়ে ভয় বাড়ছে। আগের ইনিংসে ১৪৩ রানে গুটিয়ে যাওয়া দলটি কতটুকু ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, সেটিই এখন প্রশ্ন। ইতিহাস বলছে ব্যাপারটি কঠিন।
বাংলাদেশে এত রান তাড়া করে কোনোদিন জিতেনি কোনো দল। বাংলাদেশও টেস্টে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জিততে পারেনি।
২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তাদের দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে ২১৫ রান তাড়া করে ৪ উইকেটে পাওয়া জয়ই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সেরা।
সোমবার জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ৪৮, সিকান্দার রাজা ২৫, ব্রেন্ডন টেলর ২৪, চাকাভা ও উইলিয়ামস করেন সমান ২০ রান।
প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেয়া তাইজুল দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৫ উইকেট। ম্যাচে প্রথমবারের মতো শিকার করেন ১০ উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ তিনটি ও নাজমুল ইসলাম অপু নেন দুটি উইকেট। তিন স্পিনার মিলেই ফেলেছেন প্রতিপক্ষের দশটি উইকেট।
লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ নিরাপদে দিন শেষে করেছে। ইনজুরি শঙ্কা কাটিয়ে মাঠে নামেন লিটন কুমার দাস (১৪*)। ইমরুলকে (১২*) নিয়ে তুলেছেন ২৬ রান।








