পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষিত ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা রাজবাড়িকে আগের অবয়বে ফিরিয়ে আনতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কাজ শুরু করেছে। কয়েক বছরের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। এ রাজবাড়ির চমৎকার স্থাপত্য দেখে যেমন মুগ্ধ হন পর্যটকরা, তেমনি ঐতিহাসিক তথ্য ভালো করে জানতে না পারার ক্ষোভও আছে তাদের।
জানা যায়, মুক্তাগাছার এ রাজবাড়ি ছিল হরে রামপুত্র জগৎ কিশোর আচার্য্য চৌধুরীর। প্রাচীন জমিদার বাড়িটি বর্তমানে সংস্কার করে আগের আদলে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। তাই সীমিত পরিসরে রাজবাড়ি দেখার সুযোগ পান পর্যটকরা। রাজবাড়ির দরজার কাছের হলরুমগুলোকে যাদুঘর করা হবে। তার জন্য কাজ চলছে। অনেক দিন আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে এলেও ২০১৫ সাল থেকে সংস্কার শুরুর কথা জানায় কর্তৃপক্ষ।
সেখানকার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মো: শাহ আলম বলেন, পুরাকীর্তির ভেতরে অনেক ভাঙাচোরা আছে সেসব মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। অন্তত দুই তিনবছর লাগবে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ শেষ করতে।
রাজবাড়ীর ভেতরে আছে পুরনো মন্দির। এক সময় এখানে নিয়মিত পূজা হতো। মন্দিরের ডান পাশে ফাঁসির ঘর, জমিদারের মায়ের ঘর, অতিথি ঘরের পাশেই আছে সোনাদানাসহ মূল্যবান জিনিস রাখার সিন্দুক। হাওয়া মহল নামে পরিচিত দ্বিতল এ বাংলোসহ অন্যান্য স্থাপনা দেখেন ভ্রমণ পিপাসুরা।
পর্যটকরা জানান, আগে এখানে নিরাপত্তহীনতা ছিলো। এখন আবার নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে। সেটা খুবই ভালো উদ্যোগ। এসে এখানে শুধু দালান নয় ইতিহাসও দেখতে চান পর্যটকরা।
রাজবাড়ির শেষ প্রান্তের দিকে আগে সুরঙ্গ থাকলেও এখন আর নেই। আছে জমিদার বাড়ির প্রায় ধসে যাওয়া ভবনের অংশ বিশেষ।
রাজবাড়ির সীমানাপ্রাচীরের বাইরে আছে দৃষ্টিনন্দন ৪টি মন্দির। রাজবাড়ি ঘুরে পাশেই মুক্তগাছার ঐতিহ্যবাহী মন্ডার স্বাদ নিতে যান পর্যটকরা।










