মাথা জোড়া লাগা অবস্থায় জন্ম নেওয়া ১৮ মাস বয়সী পাবনার দুই শিশু রাবেয়া-রোকাইয়ার অস্ত্রোপচারের দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
তাদের মাথায় সাধারণ যে রক্তনালী ছিল সেটা বন্ধ করে দেওয়ায় বিকল্প রক্তনালী সক্রিয় হয়েছে। শিশু দুটির জ্ঞানও ফিরেছে।
বুধবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে চার ঘণ্টাব্যাপী হাঙ্গেরির দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচার শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়।
হাঙ্গেরির দুই চিকিৎসক ডা. স্টিফেন হিউডেক এবং অ্যান্ডোস সুকে জানান, অস্ত্রোপচারের দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে আমরা সম্পন্ন করতে পেরেছি। শিশু দুটির ব্রেইন আলাদা থাকলে তাদের উভয়ের একই রক্তনালী ছিল। মাথা আলা করতে এই রক্তনালী আলাদা করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
‘তাই আগো আমরা বেলুন ফুলিয়ে সাধারণ রক্তনালী বন্ধ করে দেখতে চেয়েছি যে উভয়ের নিজস্ব রক্তনালী সক্রিয় হয় কিনা। আশার কথা হচ্ছে উভয়ের রক্তনালীই সক্রিয় হয়েছে। তাই অস্ত্রোপচারের দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।’
বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, এখনও আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। তবে দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারায় হাঙ্গেরির দুই চিকিৎসককে আমরা দেশবাসী এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন, বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. আবুল কালাম, ডা. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
পাবনা জেলার চাটমোহরের ১৮ মাস বয়সী দুই শিশু রাবেয়া-রোকাইয়া। জন্মের পর থেকেই তাদের চিকিৎসা চলছে। তবে কেউ তাদেরকে আলাদা করার ভরসা দেননি। শিশু দুটিকে নিয়ে তাদের স্কুল শিক্ষক মা-বাবা হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরে বার বার ফিরে গেছেন।
এরইমধ্যে শিশুদের বাবা রফিকুল ইসলাম জানতে পারেন ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আলাদা হওয়া শিশু তোফা ও তহুরার চিকিৎসার খবর। এ খবরে তিনি আশার আলো দেখতে পান।
পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের সহায়তায় গত ২০ নভেম্বর ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয় শিশু দুটিকে।
শিশু দুটির চিকিৎসার সম্পুর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।







