নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীতে শুরু হওয়া আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। একই দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।
শান্তিপূর্ণ এ আন্দোলনে তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে নানান স্লোগান দিতে থাকে শিক্ষার্থীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের মধ্য দিয়েই চলছে তাদের বিক্ষোভ।
রাজশাহী
নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজশাহীতেও মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেছে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকালে মহানগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ মানববন্ধন করে তারা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন: ‘গত কিছুদিন ধরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩৩ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে। শিক্ষার্থীদের এ অকাল মৃত্যুর দায় সরকারকেই নিতে হবে।’
এ সময় তাদের চলাচলের জন্য অবিলম্বে নিরাপদ সড়কের ব্যবস্থা না করা হলে, শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তারা সড়ক অবরোধ তুলে নেয়।
কুষ্টিয়া
দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে সারাদেশের মত আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে কুষ্টিয়াতেও। বৃহস্পতিবার সকালে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সকাল ১০টার পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মিছিল ও স্লোগান সহকারে হাজির হয় কুষ্টিয়া শহরের ব্যস্ততম মজমপুরগেট এলাকায়।
এ সময় কয়েকশত শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও তাদের যৌক্তিক আন্দোলনের দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয় সেখানে।
সোয়া ১১টার দিখে শিক্ষার্থীরা মজমপুর গেট থেকে মানববন্ধন শেষ করে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের এনএসরোড প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত পোস্টার ও ফেস্টুন শোভা পায়।
এতে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
নারায়ণগঞ্জ
শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরইল মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। এসময় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় তারা। এতে যানবাহন আটকা পড়ে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
সকাল ১০টায় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়। পৌনে এগারোটার দিকে শিক্ষার্থীরা চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভ পয়েন্টে অবরোধ সৃষ্টি করে। তারা শিক্ষার্থী হত্যার বিচার ও নৌ পরিবহন মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এ সময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা কয়েকটি যাত্রীবাহী বাস ভাংচুর করেছে।
যশোর
দুই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে যশোরে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর পদত্যাগ ও ঘাতক বাস চালকের বিচারের দাবিসহ নয় দফা দাবি জানায়।
বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে মিছিলটি প্রেসক্লাব যশোরের সামনে অবস্থান নেয়। এ সসময় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। পরে তারা মানববন্ধনে অংশ নেয়। মানববন্ধন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা।
নোয়াখালী
নিরাপদ সড়ক চাই, পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়। এই স্লোগানে বাস চাপায় শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে নোয়াখালীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সকাল ১১টার দিকে বিভিন স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা নোয়াখালীর প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে ও অবরোধ করে। এ সময় ঢাকা-নোয়াখালী-চট্রগ্রাম সহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ৩টি বাস ভাংচুর করে। এরপর তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ও নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেয়।
গাজীপুর
গাজীপুরের টঙ্গী কলেজ গেট এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় মহাসড়কের দু’পাশে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টঙ্গীর কয়েকটি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজ গেট এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। হঠাৎ করে পুলিশ শিক্ষার্থীদের তাদের উপর লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েকজন ছাত্র আহত হলে একটি গাড়ি ভাংচুর করে শিক্ষার্থীরা।
অপরদিকে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা মোড় এলাকা ও চৌরাস্তায় শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে।
নওগাঁ
ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে নওগাঁয় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা মানববন্ধন করেছে।
শহরের মুক্তিরমোড়স্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে প্রধান সড়কে এই মানববন্ধন করে তারা
সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে।
পরে তারা একটি মিছল সহকারে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ করে।
খুলনা
ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনার দোষীদের শাস্তি সহ নয় দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় খুলনা মহানগীর শিববাড়ি মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।
ঠাকুরগাঁও
রাজধানীতে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে নিরাপদ সড়ক ও নৌ মন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় মহাসড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ থাকে প্রায় ২ ঘন্টা। এতে দুর্ভোগে পড়ে যাত্রী ও পথচারীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গাড়ি চালকের লাইসেন্স চেক করতে থাকে। কয়েকটি গাড়ির চালকের লাইসেন্স না থাকায় বিক্ষুব্ধরা সেসময় দুটি ট্রাক ভাঙচুর করে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে এবং সার্বিক বিষয় বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি তদন্ত রওশানারা জানান, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছে, কোথাও তেমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।








