‘কেউ কেউ মনে করেন ফুটবলটা জীবন কিংবা মৃত্যু থেকেও বড়। আমার খুব হতাশ লাগে এই ধরনের কথা শুনলে। আমি আপনাদের এতটুকু বলতে চাই ফুটবলটা ওই জীবন-মরণ থেকেও খুব, খুব গুরুত্বপূর্ণ’, সাবেক লিভারপুল কোচ বিলি শেঙ্কলির কণ্ঠ থেকে বেরিয়েছিল এই বিখ্যাত উক্তি। এই কিংবদন্তি কোচ গত মঙ্গলবার পর্যন্ত যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে হয়তো তার বিখ্যাত উক্তি পরিবর্তন করে বলে দিতেন, ‘জীবনের চেয়ে ফুটবল বড় নয়!’
সপ্তাহ ঘুরে আবারও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ার্টারের লড়াইয়ে মোনাকোর মাঠে নামতে যাচ্ছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। কিন্তু ম্যাচ ছাপিয়ে বারবার সামনে আসছে ডর্টমুন্ডের বাসে বোমা হামলার ঘটনাটি। গত মঙ্গলবার জার্মান ক্লাবটির বাসে বোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। তিন দফা সেই হামলায় হাত ভেঙে যায় স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক বাত্রার।
কিন্তু এই ধরনের প্রাণঘাতী হামলার পর খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে ধাতস্থ হবার সুযোগ না দিয়ে পরদিনই ম্যাচ খেলানোর ঘোষণা দেয় উয়েফা। নিজেদের মাঠে মোনাকোর কাছে ৩-২ গোলে হেরে ডর্টমুন্ডের সেমির স্বপ্ন এখন মলিন।
এক সপ্তাহ পর আবার যখন মাঠে নামতে যাচ্ছেন ডর্টমুন্ড ফুটবলাররা, তখন চিন্তায় সেই হার নয়, হামলার আতংক তাড়া করে ফিরছে। ডর্টমুন্ড গোলরক্ষক রোমান বুরকি নাকি এখনও রাতে ঘুমাতেই পারেন না সেই হামলার কথা স্মরণ করে। দলটির তুর্কী মিডফিল্ডার নুরি শাহিন তো স্বীকারই করেছেন মোনাকোর বিপক্ষে প্রথম লেগে বলে লাথি মারার আগে তার মাথায় ফুটবল বলে কিছু ছিলই না।
উয়েফার এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত সমালোচিত হচ্ছে ফুটবলবিশ্বে। ফুটবলারদের ধাতস্থ হওয়ার সময় না দিয়ে পরদিনই মাঠে নামানো কতটা যুক্তি সঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়েছেন বিশ্ব খেলোয়াড় ইউনিয়নের যোগাযোগ প্রধান অ্যান্ড্রু অর্সাত্তি, ‘খেলোয়াড়দের জীবনের মূল্য সবার আগে। তাদের মতামতের দাম দিতে হবে। আর এইসব সিদ্ধান্ত নিতে হবে যেকোনও চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই।’
তাই মোনাকোর মাঠে নামতে গিয়ে ভক্ত-সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছেন ডর্টমুন্ড খেলোয়াড়রা। জয়-পরাজয় যাই ঘটুক; প্রিয় ক্লাবের খেলোয়াড়দের প্রাণটাই বেশি মূল্যবান তাদের কাছে। আর ফুটবলাররাও সেটি ভালো করেই জানেন।
দিন শেষে হয়তো দর্শক-খেলোয়াড়দের অন্তরে ঘুরে ফিরবে সেই দীর্ঘশ্বাস-এভাবেও ফিরে আসা যায়!








